আবারও শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব চুয়াডাঙ্গায়
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ডায়রিয়া পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে এবং ভর্তি থাকছে ধারণ ক্ষমতার চেযে পাঁচগুণ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, ২০ জনের স্থানে এক থেকে দেড়শ জন ভর্তি থাকছে। একারণে সংকট দেখা দিয়েছে বেড, ঔষধ, সাপ্লিমেন্ট স্যালাইন সেট। রোগীরা বেড না পেয়ে কষ্ট করে মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছে। গতকাল সোমবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে মোট রোগী ভর্তি রয়েছে ১৭৫ জন। এদের মধ্যে বেশীর ভাগই শিশু।
সদর হাসপাতালের ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, ওয়ার্ডে সামান্য পরিমাণ জায়গা ফাঁকা নেই। মেঝেতেও চলছে চিকিৎসা। রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক-নার্সদের। সীমিত জনবল নিয়ে একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক রোগী সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক শিশুকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। শীতের এই সময়ে ঠান্ডা মেঝেতে অসুস্থ শিশুদের নিয়ে বসে থাকতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মায়েরা।
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত একটি শিশুর মা শাহিনা খাতুন বলেন, তার দুই বছরের ছেলের হঠাৎ বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কিন্তু এসে দেখেন কোনো বেড খালি নেই। ঠান্ডা মেঝেতেই শিশুকে নিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে। আরেক অভিভাবক মর্জিনা খাতুন বলেন, রাতে শীত বেশি থাকায় মেঝেতে বাচ্চাকে নিয়ে থাকা খুব কষ্টের, তবুও উপায় নেই। গত ৫ দিন ধরে ছেলেকে নিয়ে আছি। রোগীদের প্রচুর চাপ। তবে ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা পাচ্ছি। হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স নাজমুন নাহার জানান, প্রতিদিনই ডায়রিয়া রোগী বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদি ছুটি হচ্ছে ৩০ জন ভর্তি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ জন। লোকোবল কম থাকায় রোগী সামলাতেন তাদেরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আরও তিনি বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে অভিবাবকদের সচেতন হওয়াই সবচেয়ে জরুরি। ডায়রিয়া খুব মারাত্মক নয়, কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা না হলে পানিশূন্যতা শিশুর জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় রোটা ভাইরাসে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়। এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনও নির্দিষ্ট কোনোদিন অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। তাই চিকিৎসার মূল ভরসা ওরাল স্যালাইন। শিশুদেরকে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা যাবে না। ছয় মাসের বেশি বয়সি শিশুদের নরম খাবার, কাঁচকলা ভর্তা, ডালের পানি খাওয়াতে হবে এবং প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর স্যালাইন খাওয়ানো বাধ্যতামূলক। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা শীতের এ মৌসুমে পচণ্ডবাসি খাবার না খাওয়া এবং ঠান্ডা থেকে দুরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
