প্রতীক পেয়ে জনতার দুয়ারে প্রার্থীরা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ২৯৮ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করেন। আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে প্রচারণা
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আলোকিত ডেস্ক

বগুড়া : জেলার ৭টি সংসদীয় আসনের বৈধ ৩৪ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। গতকাল জেলা রিটার্নিং অফিসার তৌফিকুর রহমন তার সভা কক্ষে প্রতীক বরাদ্দ দিয়ে তা প্রার্থী ও তার প্রতিনিধির হাতে তুলে দেন। প্রতীক প্রাপ্তরা হলেন, বগুড়া-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম (ধানের শীষ) জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহাবুদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের এবিএম মোস্তফা কামাল পাশা (হাতপাখা) বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. আসাদুল হক (ডাব), গণফোরামের জুলফিকার আলী (উদীয়মান সূর্য)। বগুড়া-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আবুল আজাদ মোহাম্মাদ শাহাদুজ্জামান (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির মীর শাহে আলম (ধানের শীষ) নাগরিক ওইক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না (কেটলি), ইসলামী আন্দোলনের জামাল উদ্দিন (হাতপাখা), স্বতন্ত্র রেজাউল করিম তালু (সিঁড়ি) গণঅধিকার পরিষদের সেলিম সরকার (ট্রাক), জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ (লাঙল)। বগুড়া-৩ আসনে জামায়াতের নূর মোহাম্মাদ, (দাঁড়িপাল্লা) বিএনপির আব্দুল মহিত তালুকদার (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের শাহজাহান আলী তালুকদার (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির শাহিনুল ইসলাম (লাঙল)। বগুড়া-৪ আসনে জামায়াতের মোস্তফা ফয়সাল (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির মোশারফ হোসেন (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের ইদ্রিস আলী (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির শাহীন মোস্তফা কামাল (লাঙল)। বগুড়া-৫ আসনে জামায়াতের মো. দবিবুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজ (ধানের শীষ), এলডিপির খান কুদরত ই সাকলায়েন (ছাতা), ইসলামী আন্দোলনের মীর মাহমুদুর রহমান (হাতপাখা), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির শিপন কুমার রবিদাস (কাস্তে)। বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির তারেক রহমান (ধানের শীষ), জামায়াতের আবিদুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) ইসলামী আন্দোলনের আবু নুমান মামুনুর রশিদ (হাতপাখা), জেএসডির আব্দুল্লাহ আল ওয়াকি (তারা), বাসদের দিলরুবা (মই)।
বগুড়া-৭ আসনে জামায়াতের গোলাম রব্বানী (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির মোর্শেদ মিল্টন (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের শফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) ও মুসলিম লীগের আনছার আলী (হারিকেন)।
রংপুর : জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৪৫ জন প্রার্থীর হাতে প্রতীক তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে রংপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো নির্বাচনি লড়াই। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের হাতে নিজ নিজ প্রতীক তুলে দেন। প্রতীক বরাদ্দের পরপরই প্রার্থীদের মধ্যে দেখা গেছে উৎসাহ-উদ্দীপনা, আর মাঠপর্যায়ে শুরু হয়েছে জোর প্রস্তুতি ও প্রচারণার তোড়জোড়। প্রথমে রংপুর-১ আসনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে জেলার বাকি পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের প্রতীক প্রদান করা হয়। জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুর-১ আসনে ৬ জন, রংপুর-২ আসনে ৫ জন, রংপুর-৩ আসনে ৮ জন, রংপুর-৪ আসনে ৮ জন, রংপুর-৫ আসনে সর্বোচ্চ ১০ জন এবং রংপুর-৬ আসনে ৮ জন প্রার্থী নির্বাচনি প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫ জন। প্রতীক বরাদ্দকে ঘিরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। জাতীয় পার্টি, বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীক গ্রহণ করেন।
কক্সবাজার : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজারের চারটি আসনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দলের ১৭ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এসব প্রার্থীদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আ. মান্নান। এরমধ্যে কক্সবাজার-১ চকরিয়া-পেকুয়া আসনের ৩ জনের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ধানের শীষ, জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুখ দাঁড়িপাল্লা এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. ছরওয়ার আলম কুতুবী পেয়েছেন হাতপাখা প্রতীক।
কক্সবাজার ২ : মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের পাঁচ জনের মধ্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ দাঁড়িপাল্লা, বিএনপির প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ ধানের শীষ, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জিয়াউল হক হাতপাখা, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) প্রার্থী এসএম রোকনুজ্জামান খান ট্রাক এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মাহমুদুল করিম পেয়েছেন লাঙল প্রতীক।
কক্সবাজার ৩ : সদর-রামুণ্ডঈঁদগাহ আসনের ০৫ জনের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল ধানের শীষ, জামায়াতের প্রার্থী শহীদুল আলম বাহাদুর দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আমিরুল ইসলাম হাতপাখা, লেবার পার্টির প্রার্থী জগদীশ বড়ুয়া আনারস এবং আমজনতা দলের প্রার্থী নুরুল আবছার পেয়েছেন প্রজাপতি প্রতীক।
কক্সবাজার ৪ : উখিয়া-টেকনাফ আসনে ৪ জনের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী ধানের শীষ, জামায়াতের প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নুরুল হক হাতপাখা এবং জাতীয়তাবাদী গণতন্ত্রিক আন্দোলন এনডিএম এর প্রার্থী সাইফুদ্দিন খালেদ পেয়েছেন সিংহ প্রতীক।
নড়াইল : নড়াইল-১ আসন ও নড়াইল-২ সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টির প্রার্থী এবং স্বতন্ত্রসহ মোট ১৫ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল নড়াইলের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আব্দুস সালাম প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, ৯৩ নড়াইল-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. ওবায়দুল্লাহ কায়সার (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আব্দুল আজিজ (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মো. মিল্টন মোল্যা (লাঙল), স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক বিএম নাগিব হোসেন (কলস), লেফট্যানেন্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) এসএম সাজ্জাদ হোসেন (ফুটবল) এবং সুকেশ সাহা আনন্দ (ঘোড়া) নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া ৯৪ নড়াইল-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ড. এজেডএম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আতাউর রহমান বাচ্চু (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যক্ষ মাওলানা তাজুল ইসলাম (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির খন্দকার ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ (লাঙল), গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) নুর ইসলাম (ট্রাক) বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট শোয়েব আলী (ছড়ি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনিরুল ইসলাম (কলস) ও ফরিদা ইয়াসমিন (জাহাজ) নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
চাঁদপুর : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার শেষে চাঁদপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন ৩৫ জন। স্বতন্ত্র ও দলীয় এসব প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। গতকাল বুধবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভা কক্ষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নাজমুল ইসলাম সরকার প্রার্থীদের হাতে প্রতীক বরাদ্দের কাগজ তুলে দেন। এ সময় পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রবিউল হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) উজালা রাণী চাকমা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফা।
যশোর : যশোর জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে চূড়ান্তভাবে ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গতকাল জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান নিজ কার্যালয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন এবং প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন। এ সময় জেলা প্রশাসক প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। বিধি ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান তার বক্তব্যে জানান, এ বছর যশোর জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন, যা আগের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। জেলার ৬টি আসনের ৮২৪টি ভোটকেন্দ্রে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
রাজশাহী : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ২৯ জন প্রার্থী নিজ নিজ প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। নির্বাচন আচরণবিধি মেনে আগামীকাল থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করতে পারবেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হয়। এতে সব প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রতীক বরাদ্দ দেন। কার্যক্রমের শুরুতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের নির্বাচন আচরণবিধি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। পরে ব্যানার-ফেস্টুন টাঙানো, সভা-সমাবেশ ও মিছিল সংক্রান্ত বিধি নিষেধসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দ প্রদান করা হয়। প্রতীক বরাদ্দে রাজশাহীর ৬টি আসনে ২৬ জন দলীয় প্রার্থী তাদের নিজ নিজ দলীয় প্রতীক পান। পাশাপাশি দুটি আসনের ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী তাদের পছন্দের প্রতীক বরাদ্দ লাভ করেন। এর মধ্যে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের স্বতন্ত্র তরুণ প্রার্থী সালেহ আহমেদ (মোটরসাইকেল) প্রতীক পান। রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসফা খায়রুল হক (ঘোড়া) প্রতীক এবং যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের বর্তমান সহ-সভাপতি ও বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রেজাউল করিম (ফুটবল) প্রতীক বরাদ্দ পান।
নওগাঁ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁয় ৬টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৩২ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার সাইফুল সাইলাম প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করেন। নওগাঁর ৬টি আসনে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের দলীয় প্রার্থী ২৭ জন এবং স্বতন্ত্র ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে এই প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। এ সময় নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা প্রতিপালনের বিষয়ে বিশেষভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয় প্রার্থীদের। নওগাঁর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার সাইফুল সাইলাম বলেন, প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার প্রচারণা শুরু করবে। বর্তমানে নির্বাচনি মাঠে ২২ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি নির্বাচনি মাঠে কাজ করবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুষ্ঠ, সুন্দর নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।
শেরপুর : শেরপুরের ৩টি নির্বাচনি আসনের বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। গতকাল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিভিন্ন দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান। প্রতীক বরাদ্দপ্রাপ্তরা হলেন- শেরপুর-১ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা (ধানের শীষ), জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), এনসিপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া (শাপলা কলি), জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক মনি (লাঙল) ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ (মোটরসাইকেল)। শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী মো. ফাহিম চৌধুরী (ধানের শীষ), জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. গোলাম কিবরিয়া (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল্লাহ আল কায়েস (হাতপাখা) ও এবি পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল্লাহ বাদশা (ঈগল)। শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল (ধানের শীষ), জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা নুরুজ্জামান বাদল (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মুফতি আবু তালেব মো. সাইফুদ্দিন (হাতপাখা), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মাকর্সবাদী) মনোনীত প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান (কাঁচি) ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বাদশা (মোটরসাইকেল)। এদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও প্রার্থীর পক্ষে নিজ নিজ প্রতীক স্বাক্ষর দিয়ে বুঝে নিলেও শেরপুর-১ আসনে এনসিপি প্রার্থী অনুপস্থিত ছিলেন এবং তার পক্ষে কেউ প্রতীক বুঝে নেননি।
গাইবান্ধা : জেলার ৫টি আসনের প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা ৪০ জন প্রার্থীর মধ্যে এই প্রতীক বরাদ্দ করেন। এবার গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে ৮ জন, গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে ৭, গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ি) আসনে ১০, গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে ৬ ও গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী (ধানের শীষ), পরমানন্দ দাস (কাঁচি), মোছা. ছালমা আক্তার (কলস), মো. কাওছার আজম হান্নু (প্রজাপতি), মো. মাজেদুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), মো. মোস্তফা মহসিন (ঢেঁকি), মো. রমজান আলী (হাত পাখা), শামীম হায়দার পাটোয়ারী (লাঙল)। গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে আহসানুল হাবীব সাঈদ (কাঁচি), মিহির কুমার ঘোষ (কাস্তে), মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ (হাত পাখা), আনিসুজ্জামান খান বাবু (ধানের শীষ), মো. আব্দুর রশীদ সরকার (লাঙল), আব্দুল করিম (দাঁড়িপাল্লা) শাহেদুর রহমান (কলম)। গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ি) আসনে অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক (ধানের শীষ), আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), এসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি (ঘোড়া), মইনুর রাব্বী চৌধুরী (লাঙল), মো. আজিজার রহমান (ঢেঁকি), মো. আব্দুল্লাহ আদিল (কাঁস্তে), এটিএম আওলাদ হোসাইন (হাত পাখা), মনজুরুল হক (কলম), মো. মোছাদ্দিকুল ইসলাম (আপেল), সুরুজ মিয়া (ট্রাক)। গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে কাজী মশিউর রহমান (লাঙল), মোহাম্মদ শামীম কায়সার (ধানের শীষ), আতোয়ারুল ইসলাম (কোদাল), আব্দুর রউফ আকন্দ (মোটরসাইকেল), আব্দুর রহিম সরকার (দাঁড়িপাল্লা), সৈয়দ তৌহিদুল ইসলাম তুহিন (হাত পাখা)।
গাইবান্ধা-৫ : (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনে এএইচএম গোলাম শহীদ রঞ্জু (মোটরসাইকেল), নাহিদুজ্জামান নিশাদ (হাঁস), মোছা. রাহেলা খাতুন (কাঁচি), মো. আজিজুল ইসলাম (হাতপাখা), মো. আব্দুল ওয়ারেছ (দাঁড়িপাল্লা), ফারুক আলম সরকার (ধানের শীষ), শামীম হায়দার পাটোয়ারী (লাঙল), শ্রী নিরমল (কাস্তে), হাসান মেহেদী বিদ্যুৎ (ঘোড়া)।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের হাতে তাদের নির্ধারিত প্রতীক তুলে দেওয়া হয়। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মোট ৪৮ জন বৈধ প্রার্থীর মধ্যে এদিন প্রতীক বরাদ্দ প্রদান করা হয়। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়া আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে ইকবাল চৌধুরী পেয়েছেন ‘কলার ছড়া’ প্রতীক এবং কামরুজ্জামান মামুন পেয়েছেন ‘ঘোড়া’ প্রতীক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে তার পছন্দের ‘হাঁস’ প্রতীক এবং এনএস তরুণ দে ‘কলার ছড়া’ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে কাজী নাজমুল হোসেন তাপস পেয়েছেন ‘ফুটবল’ প্রতীক। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রার্থীরাও নিজ নিজ দলীয় প্রতীক গ্রহণ করেন। প্রতীক বরাদ্দ প্রদান অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন কুমার দে, পুলিশ সুপার শাহ আব্দুর রউফ, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শানিয়াজ্জামানসহ প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ঠাকুরগাঁও : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের দিনে ঠাকুরগাঁও?য়ের তিনটি আসনে ২০ প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনসহ অনেকে উপস্থিত থেকে প্রতীক গ্রহণ করেন। ঠাকুরগাঁও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ইরশাত ফারজানা এই প্রার্থীদের এসব প্রতীক ঘোষণা করেন।
ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে তিন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা দক্ষিণের ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ঠাকুরগাঁও-২ (হরিপুর, বালিয়াডাঙ্গী ও রানীশংকৈল উপজেলার আংশিক কাশিপুর ও ধর্মগড় ইউনিয়ন) আসনে সাত প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির নুরুন নাহার বেগম লাঙল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির আব্দুল হাকিম দাঁড়িপাল্লা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র ডা. আব্দুস সালাম ‘ধানের শীষ’, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি)-র নাহিদ রানা ঈগল, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)-র ফারুক হোসেন ট্রাক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেজাউল করিম হাতপাখা এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাহাব উদ্দীন আহাম্মেদ ‘কাস্তে’ প্রতীক।
ঠাকুরগাঁও-৩ (পীরগঞ্জ-রানীশংকৈল আংশিক) আসনে ১০ জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাহিদুর রহমান ধানের শীষ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এসএম খলিলুর রহমান সরকার হারিকেন, বাংলাদেশ মাইনরিটি পার্টি (বিএমজেপি)-র কমলাকান্ত রায় রকেট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাত সমীর শাহজাহান আলম কাস্তে, স্বতন্ত্র প্রার্থী আশা মনি ফুটবল, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)-র মামুনুর রশিদ মামুন ট্রাক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মিজানুর রহমান দাঁড়িপাল্লা এবং জাতীয় পার্টির হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ লাঙল প্রতীক পেয়েছেন।
পাবনা : পাবনার পাঁচটি আসনের মধ্যে তিনটি আসনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সকাল থেকে জেলার রিটানিং কর্মকর্তার (জেলা প্রশাসকের) কার্যালয়ে এই প্রতিক বরাদ্দ দেওয়া হয়। জেলার রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফা তিনটি আসনের ১৮জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেন। উল্লেখ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন পাবনা-১ ও ২ আসনের জন্য নতুন তফসিল ঘোষণা করে।
নতুন তফসিল অনুযায়ী, ১৯ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাই করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২০ থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৫ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ জানুয়ারি। ২৭ জানুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে নির্বাচনী প্রচার।
