কুষ্টিয়ায় ৩ বছরে ১২২ ট্রান্সফরমার চুরি

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার প্রায় ১১টি ইউনিয়নে গত তিন বছরে ১২২টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে চরমে বিপাকে পড়েছে এসব ইউনিয়নের সাধারণ মানুষেরা।

গত তিন বছর কুমারখালী উপজেলার আলাউদ্দিননগর, যদুবয়রা, বাঁশগ্রাম, কসবা, চাঁদপুর, শিলাইদহসহ ১১টি ইউনিয়নে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি হয় যার ক্ষতি প্রায় ৮৪ লক্ষাধিক টাকা। ট্রান্সফরমার চুরির ফলে গ্রাহকদের সেচ কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় বিদ্যুতহীন থাকতে হচ্ছে তাদের। স্থানীয়রা জমিতে সেচ, ব্যাটারি চার্জ দিতে পারছেন না এমনকি রাত হলে তাদের সন্তানেরা মোমবাতি জ্বালায়ে নিয়মিত পড়াশোনা করছেন। বিদ্যুতের যন্ত্রাংশ দিন দিন নষ্টের দিকে। এতে স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা চিন্তিত রয়েছে ভালো রেজাল্ট নিয়ে।

স্থানীয় এক গৃহবধূ ফরিদা খাতুন বলেন বিদ্যুৎ না থাকায় তার মোবাইল ফোনে চার্জ দিতে পারছেন না। চার্জ দিতে হলে দুই একগ্রাম পার হয়ে বসে থেকে মোবাইল চার্জ দিতে হচ্ছে। তবে এটি দ্রুত সমাধানের আশা করছেন তিনি। কৃষক হালিম বলেন, মাঠ এলাকায় সন্ধ্যার পর একেবারেই ফাঁকা হয়ে যায়। এতে চোর চক্রের সদস্যরা অতি সহজে বিদ্যুতের খুঁটির উপর উঠে বিদ্যুতের তার, ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যায় এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে পড়েছে এই ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

এক এসএসসি পরীক্ষার্থী বলেন, সামনে পরীক্ষার অনেক চাপ আছে। তবে বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি দিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারছেন না। খেটে খাওয়া অটোরিকশা চালক বলেন বিদ্যুৎ না থাকলে পেট ভরে না তাদের। দিনে যা আয় করেন সেটি দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার চলাতে হয়। কিন্তু গত কয়েক বছরে ধরে প্রায় প্রায় বিদ্যুতের তার ও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটছে। ফলে তিনি নিয়মিত অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে পারছেন না। ফলে ঠিকমত অটোরিকশা চালাতেও পারছেন না। তেমন কোনো বাড়তি আয়ের সুযোগ নেই। তবে স্থানীয়রা আরও বলছেন বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ দিলে বিদ্যুৎ অফিসের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হলে তাদের বলেন যে গ্রামে বিদ্যুতের তার ও ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। সেগুলো গ্রামবাসীরা টাকা দিলে পুনরায় সংযোগ করা সম্ভাব হবে বলে তারা জানান।

এ বিষয়ে কুমিারখালী অফিসার ইনচার্জ জামাল বলেন, কয়েক বছর ধরে ১১টি ইউনিয়নে বিদ্যুতের তার ও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটছে। এরইমধ্যে দুই চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তাদের কাছ থেকে চুরি করার মালামাল এবং চুরি সরঞ্জাম যন্ত্রপাতি উদ্ধার হয়েছে। তিনি আরও বলেন চোরগুলো একটি সংঘবদ্ধভাবে রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত দুই চোরকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্য পেয়েছেন। অল্প সময়ের মধ্যে বাকি চোরদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।