ভোটের প্রচারে সরগরম দেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে ২৯৮টি নির্বাচনি এলাকায় ১ হাজার ৯৭৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ শেষ হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা নেমেছেন প্রার্থীরা। তারা নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রার্থীদের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছেন

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আলোকিত ডেস্ক

বগুড়া : বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী তারেক রহমানের প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে বগুড়া সদর উপজেলার লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রচারণার প্রথম দিনে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনে তারেক রহমানের নির্বাচনী এজেন্ট রেজাউল করিম বাদশা, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলী আজগর তালুকদার হেনা, বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান সরকার প্রমুখ। অপরদিকে সদরের রাজাপুর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম তার ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিতে নিহত জুলাই-যোদ্ধা শহিদ রাতুলের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে প্রচারণা শুরু করেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল। গতকাল বৃহস্পতিবার শহরের নামাজঘড় গোরস্থানে নেতাকর্মিদের সঙ্গে নিয়ে শহিদ রাতুলের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় শহর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আসম আব্দুল মালেক, সহকারি সেক্রেটারি অধ্যাপক রফিকুল আলম, শহিদ রাতুলের পিতা জিয়াউর রহমানসহ জামায়াতের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মি উপস্থিত ছিলেন।

নওগাঁ : গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নির্বাচনি প্রচারে মাঠে নেমেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও সমর্থকরা। প্রচার-প্রচারণার প্রথম দিনেই উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের কাছে তারা ভোট চাইছেন। পাশাপাশি দিচ্ছেন উন্নয়ন ও পরিবর্তনের নানা প্রতিশ্রুতি। সকাল ১১টায় নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের বিএনপির প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়ার মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন। পরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও ভোটারদের কাছে ভোটচান নেতাকর্মীদের। ভোটারদের মন জয়ে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজ প্রতীক ধানের শীষে ভোট চান।

অন্যদিকে, সকাল ১০টায় সদর উপজেলার মকরামপুর চারমাথা এলাকা থেকে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী আসম সায়েম নেতাকর্মীদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন। এ সময় ভোটারদের কাছে উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজ প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট চান। পরে তিনি বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। নওগাঁর ৬টি সংসদীয় আসনে এবার বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের ও স্বতন্ত্রসহ মোট ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিভিন্ন আসনে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন।

কুষ্টিয়া : নির্বাচনি উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রথম দিনেই জমে উঠেছে কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের নির্বাচনি মাঠ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কুষ্টিয়া-৩ আসনে প্রার্থীদের গণসংযোগে সরব হয়ে ওঠে রাজনৈতিক অঙ্গন। কুষ্টিয়া-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার সদর উপজেলার কমলাপুরে তার পিতার কবর জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন। এ সময় তিনি এলাকাবাসীর কাছে দোয়া চান এবং গ্রামের বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। গণসংযোগকালে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে কুষ্টিয়া উন্নয়নে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপির এই প্রার্থী। আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রথম দিনেই প্রার্থীদের সরব উপস্থিতিতে কুষ্টিয়া-৩ আসনে নির্বাচনি উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি আমির হামজা কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে জুলাইয়ের শহিদদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন। এ সময় শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। পরে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। গণসংযোগকালে তিনি এলাকার সমস্যা সমাধান ও ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক রাজনীতির প্রতিশ্রুতি দেন। ভোটারদের কাছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তিনি।

সাতক্ষীরা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সাতক্ষীরায় জমে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠ। নতুন আসন বিন্যাসের ও প্রতীক বরাদ্ধের পর জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই প্রার্থীরা পুরোদমে প্রচারণায় নেমেছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি। সাতটি উপজেলা, আটটি থানা, তিনটি পৌরসভা ও ৭৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই জেলায় চারটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৪২৪ জন। সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া): সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যেখানে বিএনপির হাবিবুল ইসলাম হাবিব (ধানের শীষ), জামায়াতের মো. ইজ্জত উল্লাহ (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের শেখ মো. রেজাউল ইসলাম (হাতপাখা) ও জাতীয় পার্টির জিয়াউর রহমান (লাঙল) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম ডাব প্রতীকে লড়াই করবেন।

সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, গত ১৬ বছরে তালা ও কলরোয়ায় ব্রীজ, রাস্তা ঘাটসহ অবকাঠামগত কোনো উন্নয়ন না হওয়াই জনগণ এবার আমাকে পেয়ে আমার কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। একই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি ও তার দল সাধারণ মানুষের পাশে ছিল। নির্বাচিত হলে স্থানীয় মানুষের মতামতের ভিত্তিতে এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নে উদ্যোগ নেবেন। সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা): সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে বিএনপির আব্দুর রউফ (ধানের শীষ), জামায়াতের মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আশরাফুজ্জামান (লাঙল), বাংলাদেশ জাসদের ইদ্রিস আলী (মোটরগাড়ি) ও ইসলামী আন্দোলনের মুফতী রবিউল ইসলাম (হাতপাখা)। সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রউফ বলেন, সাধারণ ভোটাররা তাকে পছন্দ করেন, ভালোবাসেন।

সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রশ্নে বিএনপির সবাই এখন এক। সাতক্ষীরায় বিএনপি এখন খুব শক্তিশালী। আমি পাস করলে জনগণের পাশে থাকব সব সময়। জনগণের সব চাওয়াকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে অতি পরিচিত একজন মুখ। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের তার ও তার দলের ওপর আস্থা রয়েছে। বিগত নিরপেক্ষ নির্বাচন গুলোতে মানুষের আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে। এলাকার উন্নয়নের জন্য আমরা বদ্ধপরিকর। সাতক্ষীরা-৩ (কালীগঞ্জ-আশাশুনি): সাতক্ষীরা-৩ (কালীগঞ্জ-আশাশুনি) আসনে বিএনপির কাজী আলাউদ্দীন (ধানের শীষ), বিএনপির (বহিস্কার) বিদ্রোহী সতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম (ফুটবল), জামায়াতের হাফেজ রবিউল বাশার (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আলিপ হোসেন (লাঙল), ইসলামী আন্দোলনের ওয়েজ কুরনী (হাতপাখা) ও বিএমজেপির রুবেল হোসেন (রকেট)। সাতক্ষীরা-৩ (কালীগঞ্জ-আশাশুনি) আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য সদ্য বহিষ্কার ডা.শহিদুল আলম বলেন, তার দলীয় মনোনয়নের জন্য এ আসনের দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মাঠে নেমেছিলেন। বিএনপি থেকে তাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবির মুখে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাতক্ষীরা-৩ (কালীগঞ্জ-আশাশুনি) আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীন বলেন, দল তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। অন্য কেউ প্রার্থী হতে চাইলে দল থেকে তার প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বিশ্বাস করেন, দুঃসময়ে তিনি ও দল সাধারণ ভোটারদের পাশে ছিল। তিনি আরও বলেন, তারা তাকে ও দলকে মূল্যায়ন করবেন। তিনি পাশ করলে সাধারণ জনগণের চাওয়া পাওয়া ও গুরুত্বকে সবসময় প্রাধান্য দেবেন। এখানে জামায়াতের প্রার্থী দলের জেলা শাখার সাবেক আমির মুহা. রবিউল বাসার জয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, ভোটাররা সৎ মানুষকে পছন্দ করেন ও আস্থা রাখেন। আমি সব সময় সাধারণ জনগণের চাওয়া পাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি। সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর): সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে বিএনপির ড. মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান (ধানের শীষ), জামায়াতের জিএম নজরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আব্দুর রশীদ (লাঙল) ও ইসলামী আন্দোলনের এইচ এম মিজানুর রহমান (হাতপাখা)।সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, তিনি পাঁচ বছর ধরে জনসাধারণের ভালোমন্দে পাশে থাকার পাশাপাশি শ্যামনগর উন্নয়নে, বিশেষ করে তরুণসমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছেন। একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী জিএম নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মধ্যে তারা সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন। ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করবেন। ভোটারদের তার প্রতি আস্থা রয়েছে। তারা সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকেই বেছে নেবে।

গাইবান্ধা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার প্রথম দিনেই গাইবান্ধায় বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন দল ব্যাপক প্রচার প্রচারণা শুরু করেছে। প্রচারণা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা নিজ নিজ দলীয় কার্যালয়ে এসে সমবেত হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার বিএনপির ১৩টি ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে এসে সমবেত হয়। পরে গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী আনিসুজ্জামান খান বাবুর নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয় থেকে বিপুল আনন্দ উৎসাহের মধ্যদিয়ে একটি মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে এসে একত্রিত হয়। পরে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের প্রার্থী আব্দুল করিম গণসংযোগ শুরু করেন। এ সময় তিনি নেতাকর্মীদেরকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমে রেলওয়ে স্টেশন থেকে শুরু করে দাসবেকারীর মোড়, ডিবি রোড, স্টেশন রোড ও সার্কুলার রোডসহ শহরের বিভিন্ন সড়কে গণসংযোগ করেন। গণসংযোগকালে নেতারা ভোটাদের মধ্যে হ্যান্ডবিল বিতরণ করেন।