‘পুকুর-দিঘি সংরক্ষণ ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয়’
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রাম ব্যুরো

পুকুর-দিঘি সংরক্ষণ ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয় বিধায় চট্টগ্রামের উন্নয়নে পরিবেশ রক্ষা ও সৌন্দর্যবর্ধনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার এ লক্ষ্যে নগরীর ঐতিহ্যবাহী মুন্সী পুকুর পাড়, চকবাজার প্যারেড মাঠ, বলুয়ারদিঘি, বাকলিয়া স্টেডিয়াম এবং সদরঘাটের বালুর মাঠ পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শনকালে মেয়র সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার, উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি জানান, নগরীর ঐতিহ্যবাহী পুকুর, দিঘি ও খেলার মাঠগুলোকে পরিকল্পিত সংস্কারের মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা হবে, যাতে নগরবাসী একটি সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন।
পুকুর-দিঘি রক্ষায় জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, বলুয়ারদিঘি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দিঘিগুলোর একটি। লোকমুখে প্রচলিত, এটি মোগল আমলে নির্মিত হয়েছিল। ঐতিহ্য ও পরিবেশ রক্ষার্থে এই দিঘিটি সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব। যে কোনো অগ্নি দুর্ঘটনায় এই দিঘির পানি ব্যবহার করে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা সম্ভব। তিনি বলেন- আজ চট্টগ্রামে যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, তার মূল কারণ হলো জলাশয়, জলাধার, দিঘি ও পুকুর দখল করে ভরাট করে ফেলা। আমি মনে করি- চট্টগ্রামের বৃহত্তর স্বার্থে ঐতিহ্যবাহী বলুয়ারদিঘিসহ যেসব পুকুর-দিঘি এখনও টিকে আছে, সেগুলো রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এলাকাবাসী সবাই এই দিঘি রক্ষায় সিটি কর্পোরেশনকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবেন বলে আমি আশা করি। আমরা এখানে একটি সুন্দর ওয়াকওয়ে, ফ্লাডলাইট, দিঘির ঘাট সংস্কার এবং বাগান করে বসার ব্যবস্থা করে দেব। এতে দিঘিটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকবে, মানুষ ব্যায়াম ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পাবে এবং এলাকাটির নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে। চট্টগ্রাম কলেজ রোডস্থ প্যারেড মাঠ, সদরঘাটের বালুর মাঠ এবং বাকলিয়া স্টেডিয়ামকে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন রূপে সাজানোর লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণয়নের অংশ হিসেবে মাঠগুলো পরিদর্শনকালে মেয়র জানান, এসব মাঠ ও স্টেডিয়াম স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ খেলাধুলার উপযোগী স্থানে রূপান্তর করা হবে। মেয়র বলেন, গত ১৬ বছরে সমাজের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি।
