বিদেশি কুল চাষে সাফল্য

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

২০০৯ সালে শখের বসে দুই বিঘা জমিতে বিদেশি কুল চাষ শুরু করেন, গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বেড়গঙ্গাঁরামপুর গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম। এরপর ১৬ বিঘা জমিতেবাণিজ্যিকভাবে তিনি কুল চাষ করে সাফল্যে অর্জন করেন। তার দেখাদেখি এখন এলাকায় অনেক যুবক এই বিদেশি কুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। জানা যায়, ১৬ বছর আগে শরিফুল ইসলাম তার জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে বিদেশি জাতের কুল চাষ শুরু করেন। গাছের বৃদ্ধি, ফুল আসা ও ফলন দেখে তিনি আশাবাদী হয়ে ওঠেন। প্রথম বছরের ফলন ও বাজারমূল্য ভালো পাওয়ায় পরবর্তীতে কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে কুল চাষের পরিধি বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে ১৬ বিঘা জমিতে বিদেশি কয়েক জাতের কুলের চাষ করছেন এ চাষি। তার বাগানে থাই কুল, আপেল কুল, নারিকেল কুল, বল সুন্দরী, ভারত সুন্দরীসহ উন্নত জাতের কুলের গাছ রয়েছে। যেগুলো আকারে বড়, স্বাদে মিষ্টি এবং বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাগান থেকে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা মণে এসব বিদেশি কুল বিক্রি করছেন। বাগান শ্রমিক নয়ন হোসেন বলেন, স্কুল বন্ধের দিনে অবসর সময়ে কুল বাগানে কাজ করি। সেই টাকা দিয়ে পড়াশোনার ও নিজে খরচ মেটাই। আরেক শ্রমিক সজিব বলেন, ৪-৫ বছর থেকে কুল ও লিচু বাগানে কাজ করি। উপার্জনের টাকা দিয়ে সংসার চালাই । কুল চাষি শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রথমে শখের বসে দুই বিঘা জমিতে কয়েক প্রজাতির বিদেশি কুল চাষ শুরু করি।

প্রথমে মৌসুমে গাছ থেকে প্রচুর ফল সংগ্রহ করি এবং বাজারমূল্য পেয়েছি। প্রতি মৌসুমে এই কুল বাগান থেকে খরচ বাদ বিঘা প্রতি ৩০-৪০ হাজার টাকা আয় করছি। আমার এ কুল বাগানে এলাকার অনেক স্কুল-কলেজের ছেলেরা অবসর সময়ে কাজ করে নিজের পড়াশোনার খরচ মিটাই। অনেক যুবকের পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এসেছে। গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম বলেন, এ বছর উপজেলায় কুলের ফলন ভালো হয়েছে। চাহিদা ও বাজারমূল্য বেশ ভালো। বাজারমূল্য ঠিক থাকলে চাষিরা লাভবান হবেন।