নিখোঁজের ১৯ মাস পর যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর আত্রাইয়ে নিখোঁজের ১৯ মাস পর চাঞ্চল্যকর সুমন হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ঘাতক শাফিউল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার বিকালে ডোবা থেকে সুমনের গুম লাশের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। সুমন উপজেলার পয়সা গ্রামের শাহাদাত হোসেনের ছেলে। আটক শাফিউল একই গ্রামের বাসিন্দা।

নিহতের পরিবার ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়- ২০২৪ সালের ২০ জুন রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে সুমন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তিনি বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেয়। পরবর্তীতে ২২ জুন এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। সুমনের বাড়ির পাশে ইটের টুকরার রক্ত লেগে থাকা দেখতে পায় পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরবর্তীতে থানা পুলিশ ইটে লেগে থাকা রক্তের ডিএনএ পরীক্ষা করে সুমনের রক্ত বলে সনাক্ত করা হয়। ঘটনায় সুমনের স্ত্রী বাদী হয়ে ২০২৫ সালে ১৫ নভেম্বর আত্রাই থানার মামলা দায়ের করেন। তবে কোনো তথ্য না থাকায় পুলিশ মামলার কোনো কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছিল না। গত এক সপ্তাহ আগে ভিকটিম সুমনের পরিবার এবং স্বজনরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পুলিশ সুপার তাদের বক্তব্য শোনার পর মামলার ডকেট পর্যালোচনা করেন। পুণরায় মামলাটি তদন্ত করার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) এবং আত্রাই থানা অফিসার ইনচার্জ ও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা প্রদান করা করেন। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে আসামি শাফিউলকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায়ে তিনি সুমনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। গ্রেপ্তার শফিউল জানায়, সুমন তার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ায় এবং স্ত্রীর হাত ধরায় ক্ষিপ্ত হয়। ২০২৪ সালের ২০ জুন রাতে শাফিউল ও ছোট ভাই সায়েম মিলে ভিকটিম সুমনকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। রাতেই বাড়ির পাশে নির্জন রাস্তায় নিয়ে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে সুমনের লাশ দুই ভাই মিলে গুম করার জন্য পাশে ডোবায় নিচু জায়গায় মাটি দিয়ে চাপা দিয়ে রাখে। ঘাতক শাফিউলের দেওয়া তথ্যে কয়শা গ্রামের রমজানের পুকুরের পানির ডোবা সেচে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুমনের হাড়গোড় এবং বিচ্ছিন্ন কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। সায়েম কয়েক মাস আগে আত্মহত্যা করেছেন। নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন- পুলিশ একটি ক্লুলেস মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে সফল হয়।