সরিষার আবাদ কম হলেও ফলন নিয়ে আশাবাদী কৃষক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর বিভিন্ন মাঠে এখন হলুদের সমারোহ। দেশে উর্ধ্বমুখী ভোজ্যতেলের বাজার। যেখানে সরিষার ব্যাপক ফলনের হাতছানি দিচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি। দাম ভাল পাওয়ার আশা কৃষকদের। তবে এবছর আবাদ কম হলেও সরিষার উন্নত জাত হওয়ায় ফলন বেশি হওয়ার আশা করছে কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে- চলতি মৌসুমে জেলায় ৫৬ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে উন্নত জাত বারি-১৭ ও ২০ এবং বিনা-৪ ও ৫ সরিষার আবাদ করা হয়েছে। যা থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার টন সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূকলে না থাকায় গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে আবাদ কম হয়েছে। আবাদ কম হলেও ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছে কৃষি বিভাগ। জেলার বিভিন্ন মাঠে এখন হলুদ ফুলের সমারোহ। সরিষার ফুল যেন দিগন্ত রাঙিয়ে দিয়েছে বিভিন্ন উপজেলার ফসলের মাঠ। জেলার মহাদেবপুর উপজেলার গোয়ালবাড়ি, মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ও বাঁকাপুর গ্রামের বিস্তির্ণ মাঠ জুড়ে দেখা মিলবে হলুদের। কোথাও সরিষার ফুল ঝরে পড়েছে আবার কোথাও হলুদে ছেয়ে আছে। এ ফসলের পর ওই জমিতে ইরি-বোরো আবাদের প্রস্তুতি নিবে কৃষক।
কৃষকরা জানান, সরিষা আবাদে খরচ ও পরিশ্রম কম হয়। প্রতি বিঘা জমিতে সরিষা আবাদে খরচ হয় প্রায় ৫-৬ হাজার টাকা। যেখানে ফলন হয় ৫-৭ মন। গত বছর বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা মন। বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বেশি হওয়ায় সরিষার ভালো দাম পাওয়ার আশা তাদের। সরিষা বিক্রি করে বাড়তি আয় করার পাশাপাশি ভোজ্য তেলের চাহিদাও পুরণ হয়। এছাড়া একই জমিতে বোরো আবাদ করায় খরচও কম হয়। এতে লাভবান হওয়া যায়।
জেলার মহাদেবপুর উপজেলার গোয়ালবাড়ি গ্রামের কৃষক উজ্জল হোসেন বলেন, গত বছর এক বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করে ফলন হয়েছিল ৭ মণ। যেখানে খরচ পড়েছিল মাত্র ৫ হাজার টাকা। খরচ বাদে লাভ হয়েছিল ১২ হাজার টাকা। যা দিয়ে বোরো আবাদ করার সময় পকেট থেকে বাড়তি টাকা খরচ করতে হয়নি। এবছর সাড়ে ৩ বিঘা জমি বন্ধক নিয়ে সরিষা আবাদ করেছি। আবাদ ভাল হয়েছে। সরিষা উঠতে আরও প্রায় ১ মাস সময় লাগবে। আশা করছি ভাল ফলনের পাশাপাশি ভাল দাম পেয়ে লাভবান হবো।
একই গ্রামের কৃষক আমজাদ মন্ডল বলেন, গত কয়েক বছর থেকে আমাদের মাঠে সরিষার আবাদ করা হচ্ছে। কারণ রোপা আমন ধান কাটার পর জমি ফাঁকা পড়ে থাকতো। তবে এখন আর ফাঁকা পড়ে থাকে না। আমাদের কাছে সরিষা একটা বাড়তি ফসল মনে হচ্ছে। এবছর ৩ বিঘাতে সরিষা আবাদ করেছি।
হরষি-দেওয়ান পাড়া গ্রামের কৃষক আদম আলী বলেন, গত বছর দেড় বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করে ১২ মণ ফলন হয়েছিল। এবছর প্রস্তুতি নেওয়ার সময় প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে পানি জমে যায়। এতে দেরি হওয়ায় আর রোপন করা হয়নি। জমি ফাঁকা পড়ে আছে। এখন বোরো আবাদের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জেলার মান্দা উপজেলার ভারশোঁ গ্রামের কৃষক হারুন বলেন, দুই বিঘাতে সরিষা আবাদ করেছি। সরিষা আবাদ করলে জমিতে ফুল ও পাতা পড়ে উর্বরতা শক্তি বাড়ে। এছাড়া জমি চাষ থাকায় বোরো আবাদে খরচ কম হয়। সরিষা তেল বাজার থেকে কিনতে হয় না। আর খৈল গবাদি পশুর খাবারের কাজে লাগে এবং সরিষা বিক্রি করে বাড়তি আয় হয়।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছা. হোমায়রা মন্ডল বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার আবাদ কিছুটা কম হয়েছে। তবে উন্নত জাত হওয়ায় ফলনের কোনো ব্যতয় হবে না। ভোজ্য তেলের চাহিদা পুরণে এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরিষা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে জেলায় এবছর প্রায় ৫৪ হাজার কৃষককে উন্নত জাতের ১ কেজি করে বীজ ও ২০ কেজি সার প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। আগামীতে আবাদ বাড়বে বলে আশাবাদী।
