সরিষার ফলন নিয়ে আশাবাদী কৃষক
* ফসল দেখে হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে, ফসলের মাঠে হলুদ ফুলের সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নাজমুল হোসেন, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)

দেশের উত্তর অঞ্চলের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে এবার রেকর্ড পরিমাণ সবচেয়ে বেশি সরিষার চাষ হয়েছে যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও কয়েক শত হেক্টর বেশি। সেই সঙ্গে বাম্পার ফলনেরও সম্ভাবনা দেখছেন কৃষক ও স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তর। ফসল দেখে হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে, ফসলের মাঠে হলুদ ফুলের সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। সেই ফুল থেকেই মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে মৌ চাষিরা।
আমন ধান কাটার পরে রবি মৌসুমের আগে পড়তি জমিতে সরিষার জন্য অনুকূল আবহাওয়া হওয়ায় অল্প দিনেই বেড়ে উঠে গাছ। আর সেই গাছের ফুল দেখে অধিক ফলনের স্বপ্ন দেখছেন রাণীশংকৈলের উপজেলার সরিষা চাষিরা। এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে উন্নত জাতের সরিষা চাষ হয়েছে এ উপজেলায়। গ্রাম বাংলার প্রকৃতির মাঠ এখন সরিষার হলদ ফুলে ছেয়ে গেছে। স্বল্প খরচে অল্প সময়ে এ ফসল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কৃষক কৃষাণীদের মধ্যে। হলুদ রঙ আর মিষ্টি মধুর সুবাসে ভরে গেছে সরিষার খেতগুলো। আর ফুল থেকে মৌমাছি দিয়ে খাঁটি মধু সংগ্রহে ব্যস্ত এ অঞ্চলের মোয়ালরা।
উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের কাদিহাট মালিবস্তি এলাকায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থেকে মৌ চাষি আব্দুস সাত্তার প্রায় শতাধিক মৌ বক্স নিয়ে এসেছেন সরিষা ফুল থেকে খাটি মধু সংগ্রহে জন্য। তিনি জানান এবার আমি এখানে ১৫-২০ দিন থাকব এবং মধু সংগ্রহ করব। তিনি বলন এখান থেকে প্রায় ১৫-২০ মণ মধু সংগ্রহ করা যাবে। তবে ফুলে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানির রস না থাকায় এবার পরিমাণে তুলনায় কম মধু সংগ্রহ হবে। এ সব মধু বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারদের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও ব্যাপক চাহিদা বাড়ছে। তিনি আরও জানান, সংগ্রহ করা এসব মধু মাঠ থেকেই পাইকারির পাশাপাশি কৃষকরা ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন।
স্থানীয় মঞ্জুর আলম, মাহিম, সোহেলসহ আরও অনেকে বলেন- আমরা সরিষার মৌসুমে ফসল ফলিয়ে যেভাবে আমরা ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণ করতে পারি ঠিক তেমনি ফুল থেকে মৌ চাষিদের মাধ্যমে নিজ এলাকা থেকেই ভেজাল মুক্ত খাটি মধু খেতে পারি। তাই আমাদের উচিত বেশি করে সরিষার চাষ বৃদ্ধি করা। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে পাওয়া তথ্য বলছে এবার উন্নত জাতের হাইব্রিড সরিষা উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণে আবাদ হয়েছে।
উন্নত জাতের মধ্যে রয়েছে, বারি সরিষা-৭, ৮ সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৮, বারি সরিষা-২০ এছাড়াও বিনা সরিষা-৪, ৯, ১০, ১১, বাউ সরিষা-৪ থেকে ৮ উল্লেখযোগ্য, যেগুলো উচ্চ ফলনশীল, স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন (৯০-৯৫ দিন) এবং প্রচলিত জাতের তুলনায় বেশি তেল ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন, যা আধুনিক কৃষি ও অধিক মুনাফার জন্য উপযুক্ত। কাশিপুর ইউনিয়নের পাটাগড়া গ্রামের কৃষক বাবুল হোসেন বলেন, এর আগে আমি সরিষার চাষ করিনি তবে এবারেই প্রথম আমি দুই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। এতে আমার বিঘা প্রতি ৫ হাজার করে খরচ হয়েছে আমি আশা করছি প্রতি বিঘা জমি থেকে ১৫ হাজার টাকা করে বিক্রি হবে আল্লাহ যদি ভালো ফসল দেয়। নন্দুয়ার ইউনিয়নের বেল্লাল, বাচোর ইউনিয়নের মামুন ও হোসেনগা ইউনিয়নের লিটন আলীসহ অনেকে বলেন, আমন ধান কাটার পরে কৃষকদের বোরো ধান চাষের আগে যে কয়েক মাস জমি খালি পড়ে থাকে সে সময়টায় এই সরিষার আবাদ করে কৃষকরা। এই ফসলটি যেমন বছরের একটি বাড়তি ফসল তেমনি কৃষকদের জন্য মোটা অঙ্কের একটি বাড়তি আয়ের সুযোগ হয়ে যায়। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, গত মৌসুমে বিভিন্ন জাতের ৬ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছিল, কিন্তু এবার লক্ষ মাত্রা অতিক্রম করে ৭ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৭০০ হেক্টর জমিতে বেশি সরিষা আবাদ হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, এবার এ উপজেলায় ৮ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় রেকর্ড পরিমাণে সরিষার চাষ হয়েছে।
কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সব সময় সঠিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা আশা করছি এ বছর ঘন কুয়াশা কম থাকায় সরিষার ফসল ভালো হয়েছে। সেইসঙ্গে আশা করছি যেভাবে ভালো ফলন দেখতে পাচ্ছি সেভাবে ফলন ও এবার বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ।
