ময়মনসিংহ বিভাগে শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘কেবি কলেজ’
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ এর ফলাফলে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (কেবি) কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি ময়মনসিংহ বিভাগে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (কলেজ) এবং জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করার গৌরব অর্জন করেছে। পাশাপাশি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. আতাউর রহমান ময়মনসিংহ জেলার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল বুধবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কেবি কলেজের অধ্যক্ষ ড. আতাউর রহমান।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের প্রতিযোগিতায় ১৬টি নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে মূল্যায়নের ভিত্তিতে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৯৮ নম্বর অর্জন করেছে কেবি কলেজ। প্রতিযোগিতায় ৯৯ নম্বর পেয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থানে রয়েছে রাজশাহী কলেজ। তবে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত হলেও বিভাগীয় পর্যায়ে সঠিক মূল্যায়ন না হওয়ার অভিযোগ তুলেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করেছে এবং পরবর্তীতে হাইকোর্টে রিট দাখিল করেছে কলেজটি। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানান, ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি শুরু থেকেই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করে আসছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৩৬ জন দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এইচএসসি ২০২৫-এর ফলাফলে কলেজটি ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে শীর্ষ স্থান অর্জন করে। শুধু বোর্ড পরীক্ষায় নয়, উচ্চশিক্ষার প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাতেও শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর মেধার স্বাক্ষর রাখছে। ইতিপূর্বে এক শিক্ষাবর্ষেই ৫২ জন শিক্ষার্থী সরকারি মেডিকেল কলেজে এবং ৩৯ জন বুয়েটে ভর্তির সুযোগ পেয়ে অনন্য নজির স্থাপন করেছে। কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড এবং জাতীয় ফিজিক্স অলিম্পিয়াডেও সাফল্য অর্জন করেছে। এছাড়া কলেজটির প্রক্তণ শিক্ষার্থীরা দেশে ও বিদেশে গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য অর্জন করেছেন।
কলেজে পড়ালেখার মান নিয়ে অধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য ‘কোয়ালিটি এডুকেশন’ নিশ্চিত করতে কলেজ কর্তৃপক্ষ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা উপকরণ ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ব্যবহার করছে। ডিজিটাল হাজিরা পদ্ধতি, নিয়মিত কাউন্সেলিং এবং পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ওয়ান শট’ রিভিশন ক্লাসের মতো কার্যকর পদক্ষেপ এখানে বিদ্যমান। শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়নে নিয়মিত ‘ইন-হাউজ প্রশিক্ষণ’ বা মাইক্রোটিচিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তবে কলেজের লক্ষ্য শুধু ভালো ফলাফল নয়, বরং শিক্ষার্থীদের উন্নত চিন্তা ও নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হিসেবে গড়ে তোলা। ‘আজকের অর্জন আমাদের প্রমাণ, ভবিষ্যৎ আমাদের প্রতিশ্রুতির এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে কলেজটি তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিপুল এই সাফল্যের পেছনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, গভর্নিং বডির সঠিক দিকনির্দেশনা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতাকে প্রধান নিয়ামক হিসেবে দেখছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে প্রশাসনিক ও আর্থিক শৃঙ্খলা এবং উন্নত অবকাঠামোর কারণে এই প্রতিষ্ঠানটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠে পরিণত হয়েছে।
