টাঙ্গাইলে ১৫ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
আসন্ন ত্রয়োদশ ন্যাশনাল ইলেকশন ও গণভোটে টাঙ্গাইলের ৮টি সংসদীয় আসনের ১ হাজার ৬৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৬০টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে- যা মোট ভোটকেন্দ্রের প্রায় ১৫.০৫ শতাংশ। এর মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিস ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলার ৮টি পার্লামেন্টরীয় সিটে এবার মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১ হাজার ৬৩টি। এর মধ্যে ১৬০টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ও ৯০৩টি ভোটকেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মোট ভোটকক্ষ রয়েছে ৬ হাজার ৩৪১টি। এসব আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৭ জন। এরমধ্যে মধ্যে নারী ভোটার রয়েছে ১৬ লাখ ৬২ হাজার ৭৭২ জন, পুরুষ ভোটার ১৬ লাখ ৭১ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২৫ জন।
সূত্রমতে, টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের ১৪৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ। এরমধ্যে মধুপুরে ১৫ এবং ধনবাড়ী উপজেলায় ১২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এ আসনে ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৪৩৩ জন ভোটারের জন্য ভোটকক্ষ রয়েছে ৮৪০টি। টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে ১৩৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে গোপালপুরে ১৫টি এবং ভূঞাপুর উপজেলায় ১৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। ৪ লাখ ১৮ হাজার ৬০৬ জন ভোটারের এ সিটে ভোট কক্ষ রয়েছে ৮০০টি। টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ সিটে মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। ৩ লাখ ৮২ হাজার ৭২০ জন ভোটারের এ সিটে ভোট কক্ষ রয়েছে ৭১৩টি। টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে ২টি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ সিটে ১১৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১টি কেন্দ্র ঝুঁঁকিপূর্ণ। এ সিটের ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৯১৭ জন ভোটারের জন্য ভোট কক্ষ রয়েছে ৬৮৪টি।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে ১টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ সিটে ১৩০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২২টি ঝুঁকিপূর্ণ। এ সিটের ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪১২ জন ভোটারের জন্য ভোটকক্ষ রয়েছে ৯১০টি। টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসন ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ সিটের ১৫৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩১টি ঝুঁকিপূর্ণ। এরমধ্যে দেলদুয়ার উপজেলায় ১৬টি এবং নাগরপুর উপজেলায় ১৫টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এ সিটের দুই উপজেলায় ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৬ জন ভোটারের জন্য ভোটকক্ষ রয়েছে ৮৮৪টি। টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসন ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ সিটে ১২৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এ সিটের ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৪৩৭ জন ভোটারের জন্য ভোটকক্ষ রয়েছে ৭২৬টি। টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) পার্লামেন্টরীয় সিটটি ২টি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ সিটে ১৩১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৩টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে বাসাইল উপজেলায় ৫টি এবং সখীপুর উপজেলায় ৮টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এ সিটের ৪ লাখ ১৪ হাজার ৮২৬ জন ভোটারের জন্য ভোটকক্ষ রয়েছে ৭৮৪টি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়- দূরবর্তী, যানবাহন আসা-যাওয়ায় অসুবিধা, দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা এবং প্রার্থীর বাড়ির সামনে ভোটকেন্দ্র বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, তাদের সব কেন্দ্রগুলো ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচনে সব কেন্দ্রেই পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
