পাবনায় ৪০০ বছরের জোড়বাংলা মন্দির সংরক্ষণের দাবি
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
কাজী বাবলা, পাবনা

পাবনায় ৪০০ বছরের প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ঐতিহ্যবাহী জোড়বাংলা মন্দির অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে। শহরের কালাচাঁদ পাড়ায় অবস্থিত জোড় বাংলা মন্দির পাবনা জেলার তালিকাভুক্ত দর্শনীয় স্থান হওয়ার পরেও প্রয়োজনীয় সংস্কারসহ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
জানা গেছে, কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা জোড়বাংলা মন্দিরটি দেশের অন্যতম প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এই মন্দিরটি শুধু পাবনা জেলার মধ্যেই নয়, ভারত উপমহাদেশের মধ্যে যে কয়েকটি জোড়া লাগোনো মন্দির দৃশ্যমান রয়েছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। মন্দিরের অভ্যন্তরে কোনো শিলালিপি না থাকায় এটির নির্মাণকালের সঠিক তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হয় এর বয়স প্রায় ৪০০ বছরেরও বেশি।
জনশ্রুতি আছে, তৎকালীন মুর্শিদাবাদ নবাবের তহশিলদার ব্রজমোহন লাহোড়ী মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন। বেদির ওপর নির্মিত মন্দিরের সামনের অংশ ৭ দশমিক ৩১ বাই ৭ দশমিক ৯২ মিটার এবং নিচের অংশ ৬ দশমিক ১২ বাই ২ দশমিক ২৮ মিটার। ৭ দশমিক শূন্য ১ মিটার উচ্চতার মন্দিরটি দুই কক্ষবিশিষ্ট। মন্দিরটির দুদিকে আটটি করে ১৬টি স্তম্ভ দৃশ্যমান। ইটের বেদির ওপরে শৈল্পিক টেরাকোটার কারুকার্যে নির্মিত হয়েছে মন্দিরটি। এর সামনের অংশ থেকে শুরু করে ভেতরসহ চারপাশের দেয়ালে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন পোড়ামাটির কারুকার্য। সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো দোচালা আকৃতির ছাদ। মন্দিরের সম্মুখ অংশে রয়েছে তিনটি প্রবেশ পথ। প্রবেশপথগুলো কারুকার্যখচিত টেরাকোটায় পরিপূর্ণ ছিল। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে মন্দিরটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর অনাদরে-অবহেলায় পড়েছিল এটি। ফলে কারুকার্যখচিত মন্দিরটির সৌন্দর্য অনেকটাই হারিয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে তৎকালীন পাবনার জেলা প্রশাসকের চেষ্টায় এর আমূল সংস্কার করা হয়। কিন্তু কালের পরিক্রমায় সেই কারুকার্যের সৌন্দর্য অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। একটা সময়ে এখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন পূজা-অর্চনা করতেন। তবে এখন এখানে কেউ পূজা করে না। সরেজমিন দেখা গেছে, মন্দির প্রাঙ্গণ ঘাস, জঙ্গল আর আগাছায় ছেয়ে গেছে। সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মন্দিরের মূল ভবনের পিলার ও দেয়ালে থাকা পোড়ামাটির শিল্পকর্মও নষ্ট হচ্ছে। সীমানা প্রাচীরের বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল। স্থানীয় লোকজন জানান, বছরের বেশিরভাগ সময়ই তালাবদ্ধ থাকে মূল প্রবেশপথ। ইতিহাস ও কালের সাক্ষী হয়ে এখনও দাঁড়িয়ে আছে। পাবনার প্রাচীন ঐতিহাসিক জোড়বাংলা মন্দিরটি দেখতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। প্রতি বছর অনেক পর্যটকের সমাগম ঘটে এখানে। জেলার অন্যতম এই পর্যটন স্থানটি সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধন করে দেশ-বিদেশের পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন পাবনাবাসী। এ বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তাফা বলেন, এটি পাবনা জেলার অনেক পুরোনো ঐতিহ্যবাহী মন্দির যার বয়স প্রায় ৪০০ বছর। জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থানটিকে যাতে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয় সেই বিষয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরকে জানানো হবে। ঐতিহ্যবাহী জোড়বাংলা মন্দির দর্শনীয় স্থান, সবাই যাতে সুন্দরভাবে দর্শন করতে পারে সেই ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। জেলার ঐতিহ্যের অংশ জোড়বাংলা মন্দিরের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য অবশ্যই প্রশাসনিকভাবে সম্মিলিত প্রচেষ্টা গ্রহণ করব।
