তারেক রহমানের সহায়তা পাওয়া জন্মান্ধ আবদুল গফুরের বাড়ি ভাঙচুর
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

ভিক্ষা না করে জীবন চালানো জন্মান্ধ রাজবাড়ী সদর উপজেলার খোলাবাড়িয়া গ্রামের আবদুল গফুরের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃৃত্তরা। গত শুক্রবার রাতে প্রতিবেশী ভাইসহ আবদুল গফুরের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। আবদুল গফুরের পালিত ছেলে আবদুল বাতেন বাদী হয়ে রাতেই সদর থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ নূরজাহান বেগম নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করে। সে স্থানীয় মৃত আমির শেখের স্ত্রী। আবদুল বাতেন মল্লিক জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বসতঘরের টিনের বেড়া কুপিয়ে ভাঙচুর ও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ সময় দুর্বৃত্তরা ঘরে থাকা প্রায় ৫৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া প্রতিবেশী বড় চাচা হানিফ মল্লিকের বাড়িতেও হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করাসহ নগদ লক্ষাধিক টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে। তিনি আরও জানান, তার (আবদুল বাতেন) সঙ্গে খোলাবাড়িয়া গ্রামের নান্নু শেখ, সাদ্দাম শেখের সঙ্গে বেকারির ব্যবসা নিয়ে কিছুদিন আগে বিরোধ দেখা দেয়। বিরোধের জের ধরে নান্নু শেখ, সাদ্দাম শেখ, রেজাউল ইসলাম নাজিরসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন শুক্রবার রাতে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এ সময় তারা বসত বাড়ির টিনের ঘরের বেড়া কুপিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়।
আবদুল গফুর বলেন, রাতের বেলায় বাড়িতে লোকজন এসে ভাঙচুর করে টাকা পয়সা নিয়ে গেছে। কি কারণে তারা এভাবে হামলা করে ভাঙচুর করলো জানি না। কত টাকা নিয়েছে তাও আমি বলতে পারছি না। বাতেন ভালো বলতে পারবে। তয় আমি হামলার বিচার দাবি করছি। রাজবাড়ী সদর থানার ওসি খোন্দকার জিয়াউর রহমান জানান, শুক্রবার রাতেই আবদুল বাতেনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে হামলাকারীদের স্বজন নূরজাহান বেগম নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করে গতকাল শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ৭৫ বছর জীবনসংগ্রামের যোদ্ধা আবদুল গফুরকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা প্রতিবেদন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নজরে আসে। তাঁর নির্দেশে গত বছর ৩০ অক্টোবর সদর উপজেলার খোলাবাড়িয়া গ্রামের আবদুল গফুরের বাড়িতে আসেন ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রহুল কবির রিজভী। এ সময় আবদুল গফুর এবং তাঁর স্ত্রী নূরজাহান বেগমের হাতে নগদ এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা তুলে দেন।
