ফেনীতে টমটম চালককে কুপিয়ে হত্যা
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীতে মাসুদ হাসান মাহিদ (১৯) নামে এক টমটম চালককে কুপিয়ে হত্যা হত্যা করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে শহরের নাজিররোডে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় গুরুতর আহত অন্য এক কিশোরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিহত মাসুদ কুমিল্লার তিতাস থানার জয়পুর গ্রামের মো. নয়নের ছেলে। তিনি দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে পরিবারসহ ফেনী শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানায়, মাসুদ তার পিতা মো. নয়নের সঙ্গে বরফকলে কাজ করতেন এবং পাশাপাশি টমটম চালাতেন।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় টমটম নিয়ে বের হলে কয়েকজন কিশোর তাকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা মাসুদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করে। আহত মাসুদ ও তার সঙ্গে থাকা ইরফানকে (১৫) ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে; কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসুদকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ইরফানকে চিকিৎসকের পরামর্শে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতের বাবা মো. নয়ন বলেন, মাসুদ তার সঙ্গে বরফকলে কাজ করতো। কয়েকদিন ধরে অসুস্থ থাকায় কাজে যায়নি। গত শুক্রবার টমটম নিয়ে বের হয়। পরে খবর পাই তাকে মেরে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এসে দেখি সে আর বেঁচে নেই। আমি ছেলের হত্যার বিচার চাই। নিহতের ছোট ভাই অভিযোগ করে বলেন, ‘ইয়াফি, রাহাত, শান্ত, মারুফ ও নিলয় আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে। এর আগেও তারা একবার আমার ভাইয়ের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল। আমি সবাইকে চিনি। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানাই’। ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রুহুল মোহছেন সুজন বলেন, মাসুদকে হাসপাতালে আনার আগেই সে মারা যান। তার বাম কাঁধ ও বুকে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত ছিল। আহত অন্য জনের বাম কান ও মুখে গভীর ক্ষত রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাহাত নামের এক কিশোরকে আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানালেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
ফেনী মডেল থানার ওসি গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম একজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
