নওগাঁয় চার বছরেও চালু হয়নি পয়ঃবর্জ্য পরিশোধনাগার

প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আব্বাস আলী, নওগাঁ

নওগাঁয় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল ও পয়ঃবর্জ্য পরিশোধনাগারটি কোনো কাজে আসছে না। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় ৪ বছর হলেও প্রকল্পটি এখনও আলোর মুখ দেখেনি। এতে ময়লা-আর্বজনার গন্ধে অতিষ্ট পৌরবাসী। ফলে এর সুফল না পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত প্রকল্পটি চালু করার দাবি। ১৯৬৩ সালে নওগাঁ পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৮৯ সালে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়। বর্তমানে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভা। কিন্তু প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়ার পরও এর বাসিন্দারা নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নওগাঁ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়- নওগাঁ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কোমাইগাড়ী মহল্লার বাইপাস এলাকায় উন্মুক্ত জায়গায় দীর্ঘ বছর থেকে হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং গৃহস্থালির বর্জ্য ও ময়লা-আর্বজনা ফেলা হতো। তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ প্রকল্পের (ইউজিআইআইপি-৩) অধীনে স্যানিটারি ল্যান্ডফিল ও পয়ঃবর্জ্য পরিশোধনাগার প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। যা থেকে উৎপাদন হবে জৈব সার। এ লক্ষ্যে ২০২০ সালে ৩০ নভেম্বর দরপত্র আহ্বান করে নওগাঁ পৌরসভা। দরপত্র বাছাই শেষে ২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ১১ কোটি ৭৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা। ২০২২ সালের ১২ এপ্রিল এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পৌরসভাকে কাজটি বুঝিয়ে দেয় একই বছরের আগস্ট মাসে। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার প্রায় ৪ বছর হলেও প্রকল্পটির কার্যক্রম চালু করতে পারেনি পৌর কর্তৃপক্ষ। এতে প্রকল্পটি আলোর মুখ না দেখায় সুফল মিলছে না। বৈদ্যুতিক লাইনসহ বেশ কিছু যন্ত্রাংশ চালু হয়নি এখনও। এতে প্রকল্পে ব্যবহৃত মেশিন ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির কার্যক্রম চালু না হওয়ায় ল্যান্ডফিলের পাশে উন্মুক্ত স্থানে এখনও প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন স্থানের ময়লা-আর্বজনা ও বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধ যেমন ছড়াচ্ছে, আশপাশের পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।

ভাগাড়ের পাশের বাসিন্দা গৃহবধূ আছিয়া বেগম বলেন- ভাগাড়ে ময়লা আর্বজনা ফেলা হয়। সেগুলো পঁচে গন্ধ ছড়ায়। বাসায় থাকায় কষ্টকর হয়ে যায়। সর্দি-কাশি লেগেই থাকে। কয়েক বছর থেকে শুনছি এসব ময়লা আর্বজনা দিয়ে জৈব সার তৈরি করা হবে। কিন্তু এখনও তো কোন কিছুই হচ্ছে না। কোমাইগাড়ী মহল্লার বাসিন্দা মিলন হোসেন বলেন- কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটি দীর্ঘদিন থেকে এভাবে পড়ে আছে। পড়ে থাকায় এর যেসব ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশ আছে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সরকার। দ্রুত এ প্রকল্পটি চালু হোক এবং পৌরবাসী এর সুবিধা পাবে এই দাবি জানাই। ময়লার ভাগাড়ে কাজ করা শ্রমকি চঞ্চল বলেন- শহরের ময়লা আবর্জনা এ ভাগাড়ে রাখা হচ্ছে। আবর্জনার মধ্যে পলিথিন ও শক্ত জাতীয় জিনিসপত্র আছে। যা থেকে আমরা দুটো আলাদা করে রাখছি। পচনশীল থেকে জৈবসার করা হবে বলে শুনেছি। নওগাঁ পৌরসভা প্রশাসক টিএমএ মমিন বলেন- অনেক আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে।

তবে প্রকল্পের ডিজাইনে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করার কোনো পদ্ধতি বা যান্ত্রিক ব্যবস্থা নাই। আর যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করতে গেলে নতুন অবকাঠামো দরকার। একারণে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

এছাড়াও নেই দক্ষ কোনো জনবল। প্রকল্পটি চালু করতে কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। তবে আশা করছি আগামীতে যেনো প্রকল্পটি সঠিক ভাবে কাজ করে। তবে প্রকল্পের ডিজাইনে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করার কোনো পদ্ধতি বা যান্ত্রিক ব্যবস্থা না থাকলেও পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে শ্রমিক দিয়ে ধীর গতিতে আলাদা করণের কাজ করা হচ্ছে।