মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষে সাফল্য
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নাজমুল হোসেন, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)

উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও বরাবরই দেশের কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছে। জেলার উৎপাদিত কৃষিপণ্য স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় রাণীশংকৈল উপজেলায় মাচা ও মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন কৃষি উদ্যোক্তা আব্দুল্লাহ আল নোমান মিন্টু।
রাণীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের উত্তর বনগাঁও গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মঞ্জুর আলমের ছোট ছেলে মিন্টু নিজ এলাকায় প্রায় ৫ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন একটি আধুনিক কৃষি খামার। যেখানে বাণিজ্যিকভাবে টমেটোসহ বিভিন্ন সবজির চাষ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি টমেটোর গাছে কাঁচা ও পাকা টমেটো থোকায় থোকায় ঝুলছে। ফলের ভারে গাছগুলো মাটির দিকে নুয়ে পড়েছে। স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতি গাছে ৫ থেকে ৭ কেজি পর্যন্ত টমেটো ধরেছে। খামারে টমেটোর পাশাপাশি করলা, শসা, বেগুন, আলু ও পেঁয়াজসহ নানা ধরনের ফসলের চাষ করা হচ্ছে। নিজের সফলতার পাশাপাশি তিনি এলাকায় প্রায় ১০-১৫ জন নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন।
কৃষি উদ্যোক্তা আব্দুল্লাহ আল নোমান মিন্টু জানান, আমি কয়েক একর জমিতে কৃষি খামার গড়ে তুলেছি। এর মধ্যে ১ বিঘা জমিতে মালচিং ও মাচা পদ্ধতিতে স্মার্ট-১২১৭ জাতের টমেটো চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করেছি। আশা করছি, আরও লক্ষাধিক টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারব। টমেটোর সঙ্গে একই জমিতে উন্নত জাতের হাইব্রিড করলার চারা রোপণ করেছি। টমেটো সংগ্রহ শেষ হলে করলা উৎপাদন শুরু হবে। এতে আরও লাভবান হওয়ার আশা করছি। তিনি আরও বলেন, মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করলে তুলনামূলক কম কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। ফলে উৎপাদন খরচ কমে এবং ভোক্তারা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত সবজি পান।
খামারের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা মো. আলম বলেন, আমি এখানে সব ফসলের পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছি। আমার সঙ্গে প্রতিদিন প্রায় ১০ জন নারী কাজ করেন, যারা সংসারের কাজের পাশাপাশি নিয়মিত আয় করতে পারছেন। খামারে কর্মরত নারী শ্রমিক রুবি আক্তার বলেন, সংসারের কাজের পাশাপাশি মিন্টু মামার খামারে নিয়মিত কাজ করি। এতে স্বামীর আয়ের পাশাপাশি সংসার খরচ ও ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার ব্যয় বহন করা সহজ হচ্ছে। অন্য নারী শ্রমিক মজিরন বলেন- সারা বছর অন্য কোথাও কাজ খুঁজতে হয় না। মিন্টু ভাইয়ের খামারে প্রতিদিন কাজ করি। টমেটোর পাশাপাশি বেগুন, শসা, চিচিঙ্গা ও আলুসহ বিভিন্ন ফসলের পরিচর্যা করি। প্রতিদিন ৩০০-৪০০ টাকা মজুরি পাই, এতে সংসার ভালোভাবেই চলে। সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম বলেন, আমি নিয়মিত এই খামার পরিদর্শন করি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ দিয়ে থাকি। এই কৃষি প্রকল্পটি এলাকায় একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। মিন্টু বাণিজ্যিকভাবে টমেটো, শসা ও বেগুনসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে সফল হয়েছেন। এরইমধ্যে তিনি এলাকায় একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
