গুড় তৈরিতে ব্যস্ত আখচাষিরা
* নতুন গুড় হাট-বাজারে উঠেছে * কৃষকরা প্রতিবিঘা জমির আখ (খেত ধরে) ৩৫-৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে থাকে * প্রতি গ্লাস রস এখন ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে * বাজারে দাম ভালো থাকায় লাভের আশা অনেক বেশি
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
এস এম তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে এবার মৌসুমী আখ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। পুরোদমে এ আখ মাড়াই করে গুড় তৈরি শুরু হয়েছে। এ নতুন গুড় হাট-বাজারে উঠেছে। দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা খুশি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থাানে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল।
এসব আখের মধ্যে রয়েছে, আইএসডি ৪১, ৪২, ৪৩, ইরি, বোন ও চুষে খাওয়ার আখ। কয়েক মাস আগে বিভিন্ন জাতের এসব আখ সংগ্রহ করে (৩ চোখের ডাং) রোপণ করা হয়। বিশেষ করে উঁচু ও দোআঁশ জমিতে এ চাষ করেছে কৃষকেরা এবং বেশিরভাগ আখের মোতা থেকে এ চাষ বেশি হয়ে থাকে। বিশেষ করে একবার আখ চাষ করলে ৪-৫ বছর মোতা থেকেই পুনরায় আখ গজায় এবং কম খরচে মোতা থেকে আখ চাষে বেশি লাভবান হয়। এ আখ চাষ চরাঞ্চলসহ বেলকুচি, কাজিপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বেশি চাষ হয়েছে।
কৃষকরা বলেছেন, মাড়াই করে নতুন গুড় তৈরি পুরোদমে শুরু হয়েছে। প্রতি ডিমা (৩ পোয়া) গড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং খাঁটি গুড় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অনেক স্থানে অসৎ কৃষকেরা ভেজাল গুড়ও তৈরি করছে। অনেক কৃষক প্রতিবিঘা জমির আখ (খেত ধরে) ৩৫-৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে থাকে। খরচের তুলনায় লাভ বেশি হয় কৃষকের। এজন্য এ লাভজনক চাষাবাদ প্রতিবছরই বাড়ছে। এছাড়া শহর-বন্দরসহ বিভিন্ন যানবাহনেও এ আখ বিক্রি হচ্ছে এবং ভ্রাম্যমাণ ভ্যানের ওপর মেশিনে ভাঙানো আখের রসের কদরও কম নয়। প্রতি গ্লাস রস এখন ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পারপাঁচিল গ্রামের কৃষক আজিজুর রহমান (১০১) ও আব্দুল করিম (৫০) আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, এবার সাড়ে ৭ বিঘা জমিতে আখ চাষ করা হয়েছে। এরইমধ্যে এ আখ মাড়াই করে নতুন গুড় তৈরি করা হচ্ছে। বাজারে দাম ভালো থাকায় লাভের আশা অনেক বেশি। তবে মোতা থেকে আখ চাষে বেশি লাভ এবং গত বছরের চেয়ে এবার এ চাষে বেশি লাভ বলে তারা আশা করছে।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের একজন কর্মকর্তা আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, এবার আখ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। কম খরচে এ চাষে লাভ বেশি। এতে প্রতিবছরই এ চাষ বাড়ছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ এ চাষে পরামর্শও দিচ্ছে। বর্তমানে বাজার ভালো থাকায় কৃষকরা খুশি।
