বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁয় জামায়াত-বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনায় দুইপক্ষের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত ১১টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নওগাঁ পৌর শাখার উদ্যোগে শহরের দয়ালের মোড়ে পৌর শাখায় সংবাদ সম্মেলন করেন নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আ স ম সায়েম। অন্যদিকে, গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে শহরের কেডির মোড় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন- জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু। স্থানীয় ও নেতাকর্মী সূত্রে জানা যায়- সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নে মাখনা কোমলগোটা গ্রামের জামায়াতের এক কর্মী শহীদ মোল্লার বাড়িতে দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল। ওই এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণা শেষে নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আ স ম সায়েমসহ কর্মী সমর্থকরা অপেক্ষা করছিল। এ সময় পাশের গ্রামের বিএনপির কর্মী সমর্থকরা তাদের খাবারের ভিডিও ধারণ করছিল। ছবি উঠানো নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে তর্ক হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের হাতাহাতির ঘটনা থেকে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুইপক্ষের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়। পরে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আ স ম সায়েম বলেন- হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে নির্বাচনি প্রচারণা শেষে একটি বাড়িতে বসে আমিসহ কর্মী-সমর্থকরা বিশ্রাম করছিলাম। হঠাৎ করে বিএনপির কর্মী সমর্থকরা খাবারের ভিডিও ধারণ করছিল। ছবি উঠাতে তাদের নিষেধ করা হলেও উত্তেজিত হয়ে আমাদের ওপর এসএস পাইপ নিয়ে হামলা করে। ঘটনার সময় স্থানীয় ভীমপুর পুলিশ ফাঁড়িতে ফোন করা হলে এসআই প্রনয়সহ কয়েকজন পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলেও তারা নিরব ভূমিকা পালন করেন। বাধ্য হয়ে সদর থানা পুলিশ ও পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে আসলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তিনি বলেন- নির্বাচনের শুরু থেকে আমার কাজকে ব্যহত করার জন্য জামায়াতে ইসলামীর ইমেজকে ভয় পেয়ে শান্তির শহরকে অশান্তিতে পরিণত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতিপক্ষ এরইমধ্যে বুঝতে পেরেছে তাদের পরাজয় নিশ্চিত। এজন্য তারা যেকোনোভাবে আমাকে হত্যা করার জন্য এ হামলা করা হয়েছে। এছাড়া আমিরে জামায়াত নওগাঁয় আসছেন। এ প্রোগ্রাম যেন না হয় এজন্য রাস্তায় রাস্তায় গ্রুপ করে কর্মী-সমর্থকদের বাধাগ্রস্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ সময় জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সহকারী অধ্যাপক মহিউদ্দিন, সদর উপজেলা আমির অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম, অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু সংবাদ সম্মেলন করে বলেন- জামায়াতের কর্মী সমর্থকরা নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করে একটি বাড়িতে তারা খাওয়া-দাওয়া করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক বিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি ভিডিও ধারণ করতে গেলে জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেয়। এক পর্যায়ে তাদের মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। গ্রামবাসী ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানাতে গেলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাদের ওপর হামলা করে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা। যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। তিনি বলেন, জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা পরিকল্পত ও উদ্দেশে প্রনোদিতভাবে হামলা করেছে।