বরিশালে নির্বাচন নিয়ে বিএনপি জামায়াতের দুই প্রার্থীর সংশয়
প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
বরিশাল ব্যুরো
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন বরিশাল-৪(হিজলা-মেহিন্দিগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাজিব আহসান। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদারও নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তারা দুজনই সংবাদ সম্মেলন করে তাদের শঙ্কার কথা জানান। গতকাল বুধবার বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপি প্রার্থী রাজীব আহসান।
তিনি বলেন, বরিশাল-৩ ও বরিশাল-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নেই। এই দুইটি আসন থেকে জামায়াত ইসলামের নেতাকর্মীরা আমার নির্বাচনি এলাকায় এসে একদিন আগে অবস্থান নিয়েছে। বিষয়টা আমি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছি। তারা এখনও পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাই এ বিষয়টি নিয়ে আমরা আতঙ্কে রয়েছি। রাজিব আহসান বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকায় এমন অনেক মানুষ এসেছে যাদের স্থানীয় কেউ চেনে না। আমি খোঁজখবর নিয়ে জেনেছি তারা বরিশাল-৩ ও বরিশাল-৫ আসনের বাসিন্দা। আমার কর্মীরা তাদেরকে চিহ্নিত করেছে। তাদের মধ্যে অনেকেই জেলা জামায়াতের পদধারী নেতা। এর আগে বেলা ১১টায় বাকেরগঞ্জে জামায়াতের কার্যালয়ে ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদার সংবাদ সম্মেলন প্রশাসনের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ করেন ও শঙ্কার কথা জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতের নির্বাচনি এজেন্ট নিয়োগ করা নিয়ে গত মঙ্গলবার ফরিদপুর ইউনিয়নের গাজীতলা বাজারে আতাউর রহমানের বাসায় আলোচনা সভা চলছিল।
এ সময় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাইয়ুম খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর মনির, কবির সন্যামত, সাংগঠনিক সম্পাদক টিটু মল্লিক, ছাত্রদল নেতা সজীব মোল্লা, দুলাল হাওলাদার বজলুর শিকদারসহ ২০-২৫ জন অতর্কিত হামলা চালান। তাদের পিটুনিতে জামায়াত কর্মী মিরাজ, মঞ্জুর ইসলাম আজাদী, রমিজ সিকদার, জসিম হাওলাদার, সাইফুল ইসলাম, কামাল হোসেন খান, জাফরুল্লাহসহ ৭-৮ জনকে পিটিয়ে আহত হন। একই দিনে গারুড়িয়া ইউনিয়নের দেউলি গ্রামে হামলা চালিয়ে কর্মী সাকিবুল ইসলাম সুমনকে আহত করে।
লিখিত বক্তব্য তিনি আরও বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী কর্মী সমর্থকরা ১১ দলীয় জোট প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, হামলার পর তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চেয়েও পাননি। তিনি বলেন, পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল ইসলাম মোল্লা বিএনপির লোক। গত মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় রাজনীতির প্রতিহিংসার জের ধরে সাজ্জাদুল ইসলাম মোল্লার একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে জামায়াতের টাকা বিতরণের কথা বলে অপপ্রচার চালায়। সাজ্জাদ মোল্লা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবুল হোসেন খানের খানের সম্পর্কে বেয়াই। সুতরাং বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বেয়াই বিএনপির পক্ষেই টাকা বিতরণ করার কথা।
এদিকে সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটের দিন বরিশালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১৬ হাজার সদস্য মাঠে সক্রিয় থাকার কথা জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল ও ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম। তারা জানিয়েছেন, বরিশাল জেলা পুলিশের অধীনে সাধারণ কেন্দ্রে ২ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৩ জন করে পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। জেলায় সর্বমোট ১ হাজার ৩৮২ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ৯৯টি মোবাইল টিম এবং ১২টি স্ট্রাইকিং টিম কাজ করবে।
