আমগাছের শাখায় শাখায় মুকুলের সমারোহ
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ইউসুফ আহমেদ, লালমোহন (ভোলা)

দ্বীপজেলা ভোলার লালমোহন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ করা হচ্ছে। এছাড়াও এই উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলের বসতঘরের আঙ্গিনা ও সড়কের পাশে লাগান আমগাছের আমের মুকুলে বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মৌ মৌ গন্ধ। গাছে গাছে উঁকি দিচ্ছেন আমের মুকুল। যে গন্ধ মানুষের মনকে বিমোহিত করছে। পাশাপাশি মধুমাসের আগমনী বার্তা শোনাচ্ছে আমের মুকুল। আম বাগানের সারি সারি গাছে শোভা পাচ্ছে শুধুই উঠতি মুকুল আর মুকুল। এ যেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন। মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। চারদিকে ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা ঘ্রাণ।
এদিকে মৌসুমের শুরুতেই আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুল ভরে গেছে বাগানসহ ব্যক্তি উদ্যোগে লাগান আমগাছগুলোতেও। তবে বড় আকারের চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল ফুটেছে। সেই মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে বাগান মালিকদের চোখে ভাসছে স্বপ্ন। তবে এই বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন বাগান মালীকরা। রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. হোসেন ও মো. আলাউদ্দিন মিয়া নামের দুই আম চাষি বিভিন্ন প্রজাতির আম্রপালি, বারি-৪, বারি-৮, বারি-১১ জাতের আম চাষ করছে। তবে আম্রপালি সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। এই সব আম চাষিরা এ অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে তারা জেলা শহর এবং রাজধানীতে ও বিক্রি করে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা আয় করেন।
এছাড়াও লালমোহন পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের মো. সিহাব উদ্দিন জানান, আমার পিতা বাড়ির সৌন্দর্যবর্ধন ও ফলের জন্য অন্য গাছের সঙ্গে আম গাছও রোপণ করেছেন। প্রতি বছরই আম গাছগুলোতে আম ধরছে। তাবে অন্য বছরের তুলনায় এবছর গাছগুলোতে অনেক বেশি মুকুল দেখা যাচ্ছে। আশা করছি এবছর ফলন আগের তুলনায় অনেক বেশি হবে।
লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু হাছনাঈন জানান, এবছর এই উপজেলায় প্রায় ৬ হেক্টর জমিতে আম গাছ রয়েছে।
এর মধ্যে কেউ কেউ বানিজ্যের উদ্দেশে চাষাবাদ করছে, আবার অনেকেই পারিবারিক চাহিদার জন্য আম গাছ লাগিয়েছেন। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এসব আম চাষিদের বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের উপকরণসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। তবে বিগত বছরের তুলনায় এ বছর আমের মুকুল অনেক বেশি। প্রতিবছরই ঝড় বন্যায় অনেক আম ঝড়ে যায়। যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে তাহলে কৃষকরা ভালো ফলন পাবেন বলে আশা করছি।
