পত্নীতলা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলে জনবল সংকট

প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর পত্নীতলা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলে (ম্যাটস) জনবল-সংকট। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যথাযথ চিকিৎসাজ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠানটির ল্যাবে নেই পর্যাপ্ত শিক্ষা সরঞ্জাম। প্রতিষ্ঠার ৪ বছরেও জোড়াতালি দিয়ে চলছে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা।

দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতের দাবি শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের। প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে- স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হয় এ প্রতিষ্ঠান। ২০২১ সালে ৫২ আসন বিশিষ্ট চার বছর মেয়াদি কোর্সে ওই বছরেই প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম ও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বেসিক এনাটমি, বেসিক ফিজিওলজি এন্ড বায়ো কেমিস্টি এবং বেসিক ফার্মাকোলজি ও বেসিক প্যাথলজি এন্ড মাইক্রোবায়োলজিসহ ১০টি বিষয় চালু রয়েছে। বর্তমানে পাঁচটি ব্যাচে শিক্ষার্থী রয়েছে ২০০ জন। ২২ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও নেই কোনো শিক্ষক। এমনকি ২৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারির পদও শূন্য। পুরো প্রতিষ্ঠানটি চালাচ্ছেন একজন অধ্যক্ষ আর দুই অতিথি শিক্ষক লেকচারার ডাঃ রোকসানা হ্যাপী ও মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আব্দুল কাদের। ফলে চরমভাবে ব্যহৃত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। দুইটি আবাসিক হলে ছেলে ও মেয়ে ৫৪ জন করে থাকার ব্যবস্থা থাকলেও বাড়তি খরচ করে সেখানে থাকছে শিক্ষার্থীরা।

পত্নীতলা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়ে ফাঁকা ক্লাসরুম। কক্ষগুলো তালাবদ্ধ। ব্যবহার না হওয়ায় অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে বিভিন্ন সরঞ্জামাদি। শিক্ষা কার্যক্রমের মতোই বেহাল অন্যান্য ব্যবস্থাপনাও। আবাসিক হল আছে নামমাত্র। নেই কোন খাওয়ার ব্যবস্থা। বাড়তি খরচ করে সেখানে থাকছে শিক্ষার্থীরা। প্রহরী না থাকায় নিরাপত্তাহীনতাই ভুগছেন মেয়ে শিক্ষার্থীরা। ঝোপ-জঙ্গলে সাপ-পোকাণ্ডমাকড়ের উপদ্রুব। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম হচ্ছে না। এ ছাড়া এখানে পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা না থাকায় ব্যবহারিক শিক্ষা কার্যক্রমও চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষকের অভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ৭০ টি কম্পিউটার এখন নষ্টের পথে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরমভাবে চিন্তিত।

দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মামুনুর রশিদ ও মাহফুজ বলেন- শিক্ষক স্বল্পতার কারণে আমরা পর্যাপ্ত ক্লাস পায়না। এ কারণে আমাদের সিলেবাস শেষ হয় না। এতে করে অনেক বিষয় অজানা থেকে যাচ্ছে। আবার ল্যাবে হাতে-কলমে যে বিষয়গুলো শিখার কথা ছিলো তা থেকেও বঞ্চিত হতে হচ্ছে।হোস্টেলে থাকা শিক্ষার্থীরা বলেন- রান্না করে দেওয়ার মতো বাবুচি (খালা) নাই। নিজেদের রান্না করে খেতে হয়। না হলে বাইরের হোটেলে গিয়ে খেয়ে আসতে হয়।

রাতে কোন প্রহরীর ব্যবস্থা নাই। নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে হয়। চত্বরে এতো ঘাস ও জঙ্গল হয়েছে পোকাণ্ডমাকড়ের আতঙ্কে থাকতে হয়। মশার উপদ্রবে অতিষ্ট। শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে শিক্ষক নিরসন সহ দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদুষ্টি কামনা করেন তারা।লেকচারার রোকসানা হ্যাপী বলেন- একটি বিষয়ে পাঠদান করানোর কথা। কিন্তু শিক্ষক স্বল্পতায় সেখানে আমাকে ৩টি বিষয়ে পাঠদান করাতে হচ্ছে।

পোরশা উপজেলায় মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন আব্দুল কাদের। কিন্তু অতিথি শিক্ষক হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানে পাঠদান করাতে হচ্ছে তাকে। তিনি বলেন, ৮টি বিষয়ে পাঠদান করাতে হয়। পাশাপাশি পরীক্ষার খাতা দেখা ও বাইরে কম্পিউটারে গিয়ে রেজাল্ট শিট তৈরি সহ আনুষঙ্গিক দায়িত্ব পালন করতে হয়।

অতিরিক্ত পাঠদান করায় হিমসিম খেতে হচ্ছে। নওগাঁ মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম বলেন- প্রতিষ্ঠানটির অর্থনেতিক কোড না হওয়ায় অর্থ বরাদ্দ ও জনবলের অভাবে চরম সংকটে পড়েছে এর কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠানের চত্বরে ঘাস ও লতাপাতায় জঙ্গলে পরিণত হয়। পোকাণ্ডমাকড়ের আতঙ্কে থাকতে হয়। বাধ্য হয়ে এসব পরিস্কার করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসের সহযোগিতা নিতে হয়। অর্থনেতিক কোড না হওয়ায় এসব সমস্যা দূর হবে না। তবে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। কবে পাস হবে, সেই অপেক্ষায় প্রহর গুণতে হচ্ছে।