মুকুলের মণ্ডম গন্ধে সোনালি স্বপ্নে ভাসছেন আম চাষিরা
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের কেশবপুরে গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল ছড়াচ্ছে পাগল করা সুবাসিত ঘ্রাণ। পল্লীকবি জমীমউদ্দীনের ভাষায় ‘আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা ফুল তুলিতে যাই ফুলের মালা গলায় দিয়ে মামার বাড়ি যাই’ কবিতার পঙক্তিগুলো বাস্তব রুপ পেতে বাকি রয়েছে আর মাত্র কয়েক মাস। তবে সুখের ঘ্রাণ বইতে শুরু করেছে। গাছে গাছে ফুটছে আমের মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে মুকুলের পাগল করা ঘ্রান। দেখা গেছে আমের মুকুলে তাই এখন মৌমাছির গুঞ্জন। মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ যেন জাদুর মতো কাছে টানছে তাদের। গাছের প্রতিটি শাখা-প্রশাখায় তাই চলছে ভ্রমের সুর ব্যঞ্জনা। শীতের স্নিগ্ধতার মধ্যে ছড়াচ্ছে সোনালি মুকুল। বছর ঘুরে আবারও তাই ব্যাকুল হয়ে উঠছে আম প্রেমীদের মন। এবার সময় এর আগে সোনালি মুকুলে ভরে গেছে কেশবপুর অঞ্চলের আম বাগান। মুকুলের ভারে নুয়ে পড়েছে আমের শাখা। মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে সোনালি স্বপ্নে ভাসছেন আম চাষিরা। বাগানের সারি সারি গাছে ঝুলছে আমের মুকুল।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলায় চলতি বছরে আম চাষ হয়েছে প্রায় ৭৫০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে মজিদপুর, সাগরদাঁড়ি, পাঁজিয়া, মঙ্গলকটে, সুফলাকাটি, ত্রিমাহিনী ও কেশবপুর সদর ইউনিয়নে বেশি আমের বাগান রয়েছে। সুরভিত মুকুলের গন্ধ পাল্টিয়ে দিয়েছে এ অঞ্চলের বাতাস। তাই দক্ষিণা বাতাসে দোল খাচ্ছে আম চাষির স্বপ্ন। আশার আলো জ্বালিয়েছে আম বাগানের মালিক ও ব্যবসায়ীদের মন।
সরেজমিনে কেশবপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি আমবাগান ঘুরে দেখা গেছে, গাছে গাছে নানা ফুলের সঙ্গে আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ আকাশে বাতাসে মৌ মৌ গন্ধে মাতোয়ারার করে তুলেছে। থোকায় থোকায় হলুদ রঙের মুকুল ও গুটি আম দেখে এরইমধ্যে ব্যবসায়ীরা বাগানে দরদাম হাঁকাচ্ছে। আর বাগানের মালিকরা আমের ভালো ফলন পেতে ছত্রাক নাশক প্রয়োগসহ বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ততার সময় পার করছেন। এদিকে আম চাষিরা খুশি হলেও কৃষি কর্মকর্তা বলেন শীত বিদায় নেওয়ার আগেই আমের মুকুল আশা ভালো নয়। কেশবপুরে প্রধান প্রধান আমের আবাদ হচ্ছে আমরুপালি, ফজলি, মল্লিকা, ল্যাংড়া, হিমসাগর হাঁড়িভাঙা, গোপালভোগ, বারি ১০, বেনারসি, সিতাভোগ ও রসে ভরা বোম্বাই। এরমধ্যে হিমসাগর, ফজলি, ল্যাংড়া, আম্রপলির চাহিদা বেশি।
কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের আম বাগানের মালিক আবদুল জলিল সরদার বলেন, বাগানের অধিকাংশ গাছে এরই মধ্যে মুকুলে ছেয়ে গেছে। উপজেলার বাগদা গ্রামের আম চাষি আবদুল কাদের বলেন, এ বছর আমার আম বাগানে প্রচুর পরিমাণে আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত মুকুলে কোনো রোগ আক্রমণ করিনি। যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে তাহলে আশা করছি প্রতিটি আম গাছেই পর্যাপ্ত পরিমাণে আম ধরবে। এবার কুয়াশা কম থাকায় মুকুল ভালোভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।
গত বছর তিন বিঘা জমিতে আমের বাগান ছিল। এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে বাগান আছে। এলাকাতে ফসলি চাষের জমি রেখে অনেকেই আম বাগান করেছে। এবার আম গাছে খুব একটা কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন হবে না। তবে ছত্রাক জনিত রোগে আমের মুকুলের গুটি আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাহলে বাগানে দুই দফা ছত্রাক নাশক স্প্রে করতে হবে।
বগা গ্রামের আম বাগানের মালিক মনোতোষ বলেন, আম চাষে সহজেই লাভবান হওয়া যায়। যার কারণে অনেকেই এ পেশায় এগিয়ে আসছেন। আমের ফলন পেতে আমরা কৃষকরা বিভিন্ন সংগঠন থেকে পরামর্শ নিচ্ছি। আশা করা যায় গত বছরের থেকে এ বছর আমের উৎপাদন বেশি হবে। আমি গত বছর এক বিঘা জমিতে আমের চাষ করেছিলাম। যা বিক্রি করেছিলাম ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ বছর দেড় বিঘা জমিতে আমের চাষ করেছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আম গাছে মুকুল আসার আগে পোকা দমনের জন্য চাষিদের ছত্রাক নাশক স্প্রে করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ উপজেলার অধিকাংশ আম গাছে মুকুল ভালভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে। এছাড়া কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে না হলে গত বছরের তুলনায় এবার আমের উৎপাদন বেশি হবে।
