স্কুল পর্যায়ে প্রথম শহিদ মিনারের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

আমাদের আন্দোলন সংগ্রামের প্রতীক মহান ভাষা আন্দোলন। আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে আমাদের ভাষার অধিকার। ভাষার অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সারা দেশে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য শহিদ মিনার।এমনই বাস্তবতায় ১৯৬৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে তৈরি করা হয় কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের পাদদেশে ভাষা আন্দোলনের সময় নিহত শহিদদের স্মরণে শহিদ মিনার। ইট সিমেন্ট দিয়ে তৈরি শহিদ মিনারটি দেখতে পিরামিডের মতো। এ বিদ্যালয়ে নির্মিত শহিদ মিনারটি বাংলাদেশে স্কুল পর্যায়ে নির্মিত প্রথম শহিদ মিনার বলে দাবি স্কুল কর্তৃপক্ষের। এ শহিদ মিনার নির্মাণে নেতৃত্ব দিয়েছেন তৎকালীন বিদ্যালয়ের ছাএ মো. সৈয়দুল আলম।
এ শহিদ মিনার নির্মাণ করার সময় ইট, বালি ও সিমেন্ট দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন তৎকালীন বাংলাদেশ ছাএ ইউনিয়ন নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান। এ ছাড়া ও শহিদ মিনার নির্মাণে যাদের অবদান ছিল তারা হলেন শাহজাদা সৈয়দ রেজাউল্লাহ আকবরী, নূরুল হুদা, প্রীতিভূষণ মজুমদার, আবুল হোসেন, আবুল হাসান, মাহবুব উল আলম, ফরিদ উদ্দিন জালাল, পিযুষ চৌধুরী, মিলন নাথ, যোগব্রত বিশ্বাস, আব্দুস সাত্তার, এস এম মমতাজ উদ্দিন, দুলাল মজুমদার, মোহাম্মদ আলী, আবুল কালাম আজাদ, অমল নাথ, মো. ওসমান, এস এম ইউসুফ, তসলিম উদ্দিন ও জাকির হোসেন প্রমুখ। শহিদ মিনার নির্মাণে সার্বিক সহযোগিতা করেছিলেন কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের তৎকালীন শিক্ষক কাজী আব্দুল গণি ছাবেরী।স্কুল আঙিনায় শহিদ মিনার নির্মাণ করায় তৎকালীন বিদ্যালয়ের ছাত্র নুরুল হুদা ও আবুল হাসানকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তৎকালীন বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবনের বরাদ্দ ও বাতিল করা হয়েছিল। ইট সিমেন্ট দিয়ে তৈরি পিরামিডের মতো দেখতে শহিদ মিনারটি মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বিলীন করে দেয় পাকিস্তানী সৈন্যরা।দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে এটি নতুন করে পূর্ন নির্মাণ করা হয়।
মহান একুশে সূবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে প্রকাশিত এম . এ বার্ণিক কর্তৃক লেখা ‘জেলায় জেলায় শহিদ মিনার’ গ্রন্থে ৮৯৭ পৃষ্ঠায় দেশের স্কুল পর্যায়ে নির্মিত প্রথম শহিদ মিনার বোয়ালখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ে বিষয়টি লিপিবদ্ধ আছে। ঐ সময়ের কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়টি বর্তমানে কধুরখীল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।
এ বিষয়ে কধুরখীল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ বড়ুয়া বলেন, বাংলাদেশের স্কুল পর্যায়ে নির্মিত প্রথম শহিদ মিনার এটি। আমরা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি করে ২০০৯ সালে বাংলা একাডেমির কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে এখনও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ যাচাই- বাছাই করে এটাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেবে এমনটি প্রত্যাশা করে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ও প্রাক্তন ছাত্র সমিতি।
