বিনম্র শ্রদ্ধায় ভাষাশহিদদের স্মরণ
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আলোকিত ডেস্ক

যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধায় ভাষাশহিদদের স্মরণ করা হয়েছে। মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ।
সিরাজগঞ্জ : বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় এ দেশের সাহসী সন্তানরা রাজপথে নেমেছিলেন। তাদের অদম্য সাহস ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে পেয়েছি আমাদের প্রিয় বাংলা ভাষা। রক্তে রাঙানো সেই একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করার শিক্ষা। ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির আত্মপরিচয় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এ দিবস উপলক্ষে প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১মিনিটে শহরের বাজার স্টেশন চত্বরে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, এই ভাষা আন্দোলনই পরবর্তীতে স্বাধীনতার চেতনার ভিত্তি রচনা করে। শহিদদের আত্মত্যাগ আমাদের জাতিসত্তার গৌরবময় প্রতীক। তাদের স্মরণ করা মানে আমাদের শিকড়কে স্মরণ করা। মহান একুশ আজ বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃত এবং গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সব শহিদদের। এ সময় জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, সিভিল সার্জন ডা. নূরুল আমিন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, মন্ত্রীর ছেলে আবেদ হাসান মাহমুদ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ জেলা বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
টাঙ্গাইল : মহান শহিদ দিবসে কর্মসূচির মধ্যে ছিল- দিবসের প্রথম প্রহরে শহিদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ, ভোরে প্রভাতফেরি, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতভাবে উত্তোলন, কালোব্যাজ ধারণ, চিত্রাঙ্কন-রচনা প্রতিযোগিতা, কবিতাবৃত্তি, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ইত্যাদি। জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্মসূচিগুলো দিনভর পালন করে। এ উপলক্ষে প্রথম প্রহরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সরকারের পক্ষে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও জেলা প্রশাসক শরীফা হক ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করে দিবসের কর্মসূচি শুরু করেন। এরপর বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, টাঙ্গাইল প্রিন্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এদিন ভোরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে প্রভাতফেরি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুন্নাহার স্বপ্না, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান প্রমুখ।
মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জ শহরের পুরাতন কাচারীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম। এরপর সিভিল সার্জন, সরকারি হরগঙ্গা কলেজ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, জেলা পরিষদ, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা, জেলা ফায়ার সার্ভিস, সরকারি মহিলা কলেজ, উপজেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর, মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাব, জেলা বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, জাকের পার্টি, মুন্সীগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতি, অনিয়মিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্টি, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, গভঃগালর্স হাইস্কুল, জেলা সমাজসেবা, কালেক্টরেট কিশলয় স্কুল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিডি ক্লিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহিদদের স্মরণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পাশাপাশি, দোয়া ও মোনাজাতে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ।
চট্টগ্রাম : দেশ স্বাধীন হওয়ার এত বছর পরও সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন নিশ্চিত না হওয়াকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; প্রশাসন, শিক্ষা, বাণিজ্য ও জনজীবনের প্রতিটি স্তরে বাংলা ভাষার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গত শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, পাবলিক লাইব্রেরি সম্মুখে, পুষ্পস্তবক অর্পণকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতারা, যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনসহ কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মেয়র বলেন, ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির আত্মপরিচয় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সূচনা। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ ভাষাশহিদদের আত্মত্যাগ পরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি রচনা করে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সেই চেতনা পূর্ণতা পায়। মানুষের মৌলিক অধিকার, সাম্য, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতি বারবার সংগ্রাম করেছে।
মেয়র আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন- প্রতিটি অধ্যায়ে শহিদদের আত্মত্যাগ জাতিকে নতুন পথ দেখিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের নেতৃত্ব একটি দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
শরীয়তপুর : প্রথম প্রহরে শরীয়তপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথমে শহিদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শরীয়তপুর-১ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম, শরীয়তপুর-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরন এবং জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম। পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সম্মিলিতভাবে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় ভাষা আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি তাদের গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
রাজবাড়ী : জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিচার বিভাগ, রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদদের স্মরণ করে। রাত ১২টা ১ মিনিটে রাজবাড়ী শহরের শহিদ খুশি রেলওয়ে মাঠ সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। একুশের প্রথম প্রহরেই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানুষের ঢল নামে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হাতে ফুল নিয়ে শহিদদের প্রতি সম্মান জানাতে উপস্থিত হন।
সর্বপ্রথম জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে রাজবাড়ী বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও শহিদদের প্রতি সম্মান জানানো হয়। পরে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল আলমের নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় জেলা ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ জাসদ, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়। সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা শহীদ মিনারে এসে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
চুয়াডাঙ্গা : একুশের প্রথম প্রহরে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ চত্বরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। গতকাল শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে জেলা পুলিশের একটি সুসজ্জিত প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর পুলিশ সুপার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে মহান ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করেন। একুশের প্রথম প্রহরে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শহীদ মিনার ও এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ঠাকুরগাঁও : প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথমে রাত ১২টা ১ মিনিটে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাসহ সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর রাত ১২টা ১৫ মিনিটে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এবং রাত ১২টা ২৫ মিনিটে সাধারণ পাঠাগার চত্বরে ভাষা সৈনিক মরহুম দবিরুল ইসলামের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তর্বক অর্পণ করা হয়।
নাটোর : রাত ১২টা ১ মিনিটে শহরের কানাইখালী মাঠে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা হয়। শুরুতেই জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একে একে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তক অর্পণ করে। পরে শহিদদের আত্মার মাগফেরাৎ কামনায় এক মিনিট নিরবতা পালন ও দেশের শান্তি সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া করা হয়। এ সময় শহীদ মিনার এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার আব্দুল ওয়াহাব ও জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও বিভিন্ন এনজিও, সামাজিক, মানবধিকারকর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) : দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে। রাত ১২টা ১ মিনিটে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে শহীদ মিনারে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনাজপুর-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুষ্প মাল্য অর্পণ করা হয়। গতকাল দুপুর ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমা খাতুনের সভাপতিত্বে মহান শহিদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্য বলেন- ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সালাম, রফিক, জব্বার, বরকতসহ আরও অনেকে শহিদের বিনিময়ে আজ আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারছি। তাই ভাষা আন্দোলনের শহিদদের তাৎপর্য আমাদের সবার মনের মধ্যে ধারণ করতে হবে। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি দিপংকর বর্মন, বীরগঞ্জ থানার তদন্ত ওসি শিয়াব উদ্দিন, বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম, বীরগঞ্জ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শাহরিয়ার মান্নান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফজলে ইবনে কাওছার আলী, উপজেলা প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীর, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আহসান হাবীব সরকার, দিনাজপুর পল্লী বিদুৎ সমিতির বীরগঞ্জ জোনালের ডিজিএম আইয়ুব আলী, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিবেদিতা দাস, দিনাজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের যুগ্ম-আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা কবিরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শাহাজাহান সিরাজ, বীরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক হোসেন।
সাতক্ষীরা : গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সাতক্ষীরায় পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সর্বস্তরের মানুষ।
রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথমে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার ও পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল-এর নেতৃত্বে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
জেলা বিএনপি এরপর সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক কমিটি, সাতক্ষীরা পৌরসভাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একে একে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ফুলে ফুলে ভরে ওঠে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ।
ছোট-বড় নানা বয়সী মানুষের ঢলে মুখরিত ছিল প্রথম প্রহর। শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষ বলেন, ভাষাশহিদদের আত্মত্যাগই বাঙালির স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার চিরন্তন প্রেরণা।
নওগাঁ : যথাযোগ্য মর্যাদায় নওগাঁয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহিদ দিবস পালিত হয়েছে। দিবসের প্রথম প্রহর রাত ১২ টা ১ মিনিটে শহরের মুক্তির মোড় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু। পরে একে একে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা বিএনপিসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে ঢল নামে সর্বস্তরের মানুষের। অমর একুশের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা।
মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে। একুশের প্রথম প্রহরে ভাষাশহিদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে সর্বস্থরের মানুষের ঢল নামে। রাত ১২টা ১ মিনিটে একে একে শহরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে স্থানীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান মিজান, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি, মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাব, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ভিডিপি, ছাত্রদল, যুবদল, কৃষকদল, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, এলজিইডি, বিদুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পানি উন্নয়ন বোর্ড, গণপূর্ত বিভাগ, সদর হাসপাতাল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাব, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।
দেবহাটা (সাতক্ষীরা) : দেবহাটা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযথভাবে পালিত হয়েছে। উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একুশের প্রথম প্রহরে মহান ভাষাশহিদদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, দেবহাটা থানা, বিএনপি, প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ক্লাব, সরকারি কেবিএ কলেজ, মহিলা কলেজ, দেবহাটা কলেজ, দেবহাটা সরকারি বিবিএমপি ইনস্টিটিউশনসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্টান। পরে শহিদদের রুহের মাগফেরাত কামনা ও দেশের কল্যাণে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা। বক্তব্য রাখেন- দেবহাটা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই লেলিন বিশ্বাস, দেবহাটা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা অলিউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির নেতা শহিদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির নেতা আব্দুল হাবিব মন্টু, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারী, হাজী কেয়ামউদ্দীন মেমোরিয়াল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আরকে বাপ্পা, সখিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন ময়না, দেবহাটা সরকারি বিবিএমপি ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক মদন মোহন পাল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র আন্দোলনের নেতা মুজাহিদ বিন ফিরোজ, ছাত্র আন্দোলনের নেতা ইমরান বাশার, উপজেলা আনসার ভিডিপির কর্মকর্তা মিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) : পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাত ১২টা ১ মিনিটে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। স্থানীয় রিজার্ভ পুকুর পাড়ে অবস্থিত শহীদ মিনারে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক দল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়। উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশের পক্ষে সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়ালীদ হাসান এবং থানার ওসি (তদন্ত) রত্নেশ্বর কুমার মন্ডল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বর্ণালী দেবনাথ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি ও তাদের সহযোগী অঙ্গসংগঠন, জাতীয় পার্টি (জেপি), এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠন পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। মজিদা বেগম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রেসক্লাব, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিওর প্রতিনিধিরাও শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নেন। দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) : মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে ভাষাশহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী। রাত ১২টা ১ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এর পরপরই কেন্দুয়া উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ তিনি উপস্থিত সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বিশেষ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয়ভাবে শহিদ দিবসের কর্মসূচিতে এটি একটি ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দুয়া উপজেলা শাখার সর্বস্তরের নেতাকর্মী, বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু আবেগঘন বক্তব্যে ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, ভাষাশহিদদের রক্তের বিনিময়েই আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা বাংলা পেয়েছি। একুশ আমাদের শিখিয়েছে অন্যায়ের কাছে কখনও মাথা নত না করার শিক্ষা। সংসদ সদস্য হিসেবে আমার প্রথম জাতীয় দিবসে শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে আমি নতুন করে শপথ করছি- এই এলাকার মানুষের অধিকার, ভাষা ও মর্যাদা রক্ষায় আমি আপসহীন থাকব।
চাটমোহর (পাবনা) : পাবনার চাটমোহরে ভাষাশহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানোর মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিবসটি পালনে চাটমোহর উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল। এদিন সারা দেশের মতো চাটমোহরেও সরকারি, বেসরকারি ভবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সব ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। দিবসের প্রথম প্রহরে উপজেলা পরিষদ শহীদ মিনারে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। এরপর পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চাটমোহর উপজেলা কমান্ড, পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও অঙ্গ সংগঠণ, চাটমোহর প্রেসক্লাব, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, ব্যবসায়ী সমিতি, অরবিটল লিংক স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ জোহর ছিল বিভিন্ন মসজিদে দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত।
তিতাস (কুমিল্লা) : কুমিল্লার তিতাসে দীর্ঘ ২২ বছর পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পেল তিতাসবাসী। জেলা পরিষদের অর্থায়নে গত সপ্তাহে উপজেলা পরিষদ মাঠের পূর্বপাশে এটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাষাশহিদদের স্মরণে পুষ্পস্তবকের মাধ্যমে এটি উদ্বোধন করা হয়। ২০০৪ সালে তিতাস উপজেলায় প্রতিষ্ঠা হলেও নানা জটিলতার কারণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমাইয়া মমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানিয়া আক্তার লুবনা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. মো. সরফরাজ হোসেন খান, তিতাস থানার ওসি (তদন্ত) মো. মফিজ উদ্দিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, সকাল সাড়ে ৯টায় কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের এমপি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন সরকার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওসমান গণি ভূঁইয়া, সিনিয়র সহ-সভাপতি আলী হোসেন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়াসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও এনজিও এবং স্বেচ্ছাসেবী গঠনের পক্ষ থেকেও ভাষাশহিদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) : নেত্রকোনার দুর্গাপুরে উপজেলা প্রশাসন, দুর্গাপুর পৌরসভা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পুলিশ প্রশাসন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), সিপিবি, প্রেসক্লাব, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহিদ দিবস পালিত হয়েছে। রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের অংশগ্রহণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরবর্তিতে সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে সুন্দর হাতের লিখা, চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন এর সঞ্চালনায়, ইউএনও আফরোজা আফসানা এর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে আলোচনা করেণ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এমএ জিন্নাহ্, ওসি মাহমুদুল হাসান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বজলুর রহমান আনছারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ, দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ওয়ালী হাসান কলি, সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশ সাহা প্রমুখ।
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) : বোয়ালখালী উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা আন্দোলনের সব শহিদের প্রতি সম্মান জাতীয় পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বোয়ালখালী উপজেলার সদস্য সচিব সরোজ চৌধুরী। ঐক্য পরিষদ কধুরখীল ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক লিটন ধর, ঐক্য পরিষদ বোয়ালখালী পৌরসভা শাখার সভাপতি আশুতোষ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক বিষু ঘোষ, ঐক্য পরিষদ নেতা সত্যজিৎ সরকার পিন্টু, মিল্টন চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুব ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি জুয়েল চৌধুরী, যুব ঐক্য পরিষদ বোয়ালখালী উপজেলার আহ্বায়ক উৎপল চৌধুরী মিঠু, যুগ্ন-আহ্বায়ক সুজন দত্ত, অনুপম চৌধুরী, হিরো সিকদার। যুব ঐক্য পরিষদ বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সদস্য সচিব রুবেল সর্দ্দার, শিমুল পাল, রাজীব চৌধুরী, তমাল বিশ্বাস, তাপস ও সুমন মল্লিক প্রমুখ।
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) : গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সব শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শাখার আয়োজনে দলীয় কার্যালয়ে এই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমান। উপজেলা জামায়াতের আমির মো. শহিদুল ইসলাম সরকার মঞ্জুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. নুরুন্নবী প্রামাণিক সাজু, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সামিউল ইসলাম, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো. বদরুল আমিন, পৌর জামায়াতের আমির মুহা. একরামুল হক, সেক্রেটারি মাহফুজার রহমান প্রমুখ।
আদমদীঘি (বগুড়া) : বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান শহিদ দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল আদমদীঘি উপজেলা সভাকক্ষে এই আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. বেনজীর আহমেদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা সুলতানা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, উপজেলা মৎস্য অফিসার নাহিদ হোসেন, থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল মুত্তাকিন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান, ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা প্রমুখ। উল্লেখ্য, দিবসটি পালনে রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। আলোচনা সভা শেষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদারের সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের পরিচিতি ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
