চুয়াডাঙ্গায় বইমেলার উদ্বোধন

প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

ফুলে ফুলে ভরা ফাগুনের দিন, ভাষার মাসের আবাশ, বইয়ের গন্ধ আবারও সাজছে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা। মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতভাষা দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা শহীদ মিনার চত্বরে তিন দিনব্যাপী একুশে বইমেলা উদ্বোধন করা হয়েছে।

রঙিন ব্যানার, পরিপাটি স্টল, মনের মতো বই আর মানুষের চোখ মফস্বলের বুকে এক নীরব উৎসব।

আলমডাঙ্গা নাগরিক উন্নয়ন কমিটি-এর আয়োজনে এবং আলমডাঙ্গা পৌরসভার সহযাগিতায় প্রতি বছরের মতো এবারও শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই অমর একুশে বইমেলা। গতকাল শনিবার আনুষ্ঠানিকভাব বইমেলার উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। উদ্বাধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, একুশ মানে মাথা নত না করার শিক্ষা, ভাষার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার। বইমেলা শুধু বই কেনাবচার স্থান নয়, এটি আমাদের চেতনা ও সংস্কৃতির মিলনমেলা। তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী করতে এমন আয়োজন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বই পড়ার অভ্যাস মানুষকে আলোকিত করে, জাতিকে এগিয়ে নেয়।

তিনি আরও বলন, ডিজিটাল যুগও বইয়ের অবদান কমেনি। ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে আমাদের নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে হবে। আলমডাঙ্গা উপজলা নির্বাহী অফিসার পানা আক্তারের সভাপতিত্ব একুশে বই মেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপস্থিত ছিলন, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি এএসএম শাহনেওয়াজ মেহদী, আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বাণী ইসরাঈল, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. এসএম মাহমুদুল হক, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হক, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আলা উদ্দিন, আলমডাঙ্গা নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সভাপতি সাবেক ব্যাংকার সিরাজুল ইসলাম,

সাধারন সম্পাদক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, আলমডাঙ্গা ডায়াবটিক সমিতির সভাপতি সাংবাদিক রহমান মুকুল। হারদী এমএস জোহা কলেজের সহকারী অধ্যাপক কেএম ফারুক হাসান প্রমুখ।

ফাগুনের নরম রোদ, ভাষা শহিদদের স্মৃতি আর বইয়ের পাতার শব্দ এই তিনের মিলনই গড়ে উঠেছে মেলার পরিবেশ। বইমেলা উপলক্ষে কবিতা আবৃত্তি, হামদ-নাত, শিশুদর চিত্রাঙ্কন প্রতিযাগিতা ও নানা সংস্কৃতির আয়োজনে সাজানো হয়েছে আয়োজনের তিন দিনই, শিশুদের চোখ কতূহল, তরুণদের মনে আগ্রহ আর বয়স্কদের চোখ স্মৃতির ছায়া সবাই যেন বইয়ের ছায়াতলে একত্রিত। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, তিন দিনব্যাপী এ বইমেলা আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এবং প্রতিদিন বিকালে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।