‘জিপি’ চাঁদা বন্ধের দাবিতে ত্রিশালে মহাসড়ক অবরোধ
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের চরপাড়া মেডিকেল কলেজ গেইটেট সামনে অস্থায়ী সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে ‘জিপি’ নামে কথিত চাঁদা আদায় বন্ধের দাবিতে, ত্রিশালে সিএনজি চালকরা গতকাল রোববার সকাল ১০টা ২৫ মিনিটের সময় পৌর সভার ৭নং ওয়ার্ডের ইভা ফিলিং স্টেশন এলাকায় ২৫০- ৩০০ জন সিএনজি চালকের দল ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। ফলে দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ থাকায় উভয়মুখী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
বিশেষ করে ময়মনসিংহমুখী অফিস-আদালতে আসা লোকজনের মধ্যে হতাশার ছাপ লক্ষ্য করা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাঁদা আদায় ও বিভিন্ন হয়রানির প্রতিবাদে সিএনজি চালকরা সড়কে অবস্থান না নিয়ে তাদের নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডে এই আন্দোলন করতে পারতো।
কোনো কিছু হলেই এইভাবে নাগরিকদের হয়রানি করা ঠিক না। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন। তিনি বিক্ষুব্ধ চালকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চাঁদা আদায়ের বিষয়টি তাকে আগে কেন জানান হয়নি, সে প্রশ্ন তোলেন।
ওসি বলেন, ময়মনসিংহে জিপি নামে চাঁদা নেয়। সেই আন্দোলন ত্রিশালে করবেন কেন। আপনারা বিষয়টি আমাকে জানালে আমি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতাম।
এইভাবে জনগণকে হয়রানি করা আমি ওসি মেনে নেব না। এখন আপনারা কর্মস্থলে ফিরে যান। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত একটা সুন্দর সমাধানের উদ্যোগ নেব। সিএনজি চালকরা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের স্ট্যান্ডে নির্ধারিত সিরিয়াল মানা হয় না। পিছনের সিরিয়ালের গাড়ি কয়েক টাকা বেশি দিলেই আগে যাত্রী তুলতে দেওয়া হয়। এতে নিয়মিত চালকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
চাহিদা মতো চাঁদা না দিলে তাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এমনকি লাঠি দিয়ে সিএনজির বডি ও গ্লাস ভাঙচুর করা হয় বলেও দাবি করেন তারা। ত্রিশাল উপজেলা মালিক সমিতির কার্যক্রম স্থগিত রাখায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সর্বোপরি পুলিশের আশ্বাসে চালকরা অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
