নদী দখলমুক্ত ও খনন করার দাবি

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার নদীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ও খরস্রোতা যমুনা নদী। সেই খরস্রোতা যমুনা নদীসহ তিনটি নদী তাদের নব্যতা হারিয়েছে অনেক আগেই। নিজেদের জৌলুশ হারিয়ে নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ায় নদীর বুকে এখন ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হচ্ছে। বিভিন্ন কারণে মরে যাচ্ছে যমুনা, সুবর্ণখালী ও ঝিনাই। এ অবস্থায় নদী খনন ও দখলমুক্ত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি স্থানীয়দের।

এ উপজেলার মধ্য দিয়ে যমুনা, সুবর্ণখালী, ঝিনাই নদী বহমান। একসময় সারা বছর এসব নদী থাকত পানিতে ভরপুর। এসব নদীর বুকে পাল তুলে চলত শত শত ছোট-বড় নৌকা, স্পিডবোড ও ট্রলার। পাশাপাশি সরিষাবাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথগঞ্জ ঘাট দিয়ে যাতায়াত করতো ছোট-বড় দেশি বিদেশি পর্যটক ও পণ্যবাহী জাহাজ, স্টিমার এবং ফেরি।

নদীর পাড়ের কৃষকেরা হাজার হাজার একর ফসলি জমিতে সেচ দিতে এসব নদী থেকে। এখন আর জমিতে সেচ দেওয়ার মতো পানি থাকে না। নাব্যতা হারিয়ে অধিকাংশ নদীগুলো এখন শীর্ণ খালে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে খনন না হওয়া ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার কারণে তলদেশে পলি জমে নদীগুলো শুকিয়ে বালুচরে পরিণত হয়েছে।

ফলে এসব নদীর বুকে হচ্ছে ধান, সরিষা, ভুট্টা, বাদাম, তিল ও কালাই, মসুর ডালের মতো ফসলের চাষাবাদ। এছাড়াও বিভিন্ন ফসলের চাষের নাম করে করা হচ্ছে নদী দখল। নদীরপাড়ের বাসিন্দা আফসার আলী, হবিবুর রহমান, আজাদ মোল্লা জানান, একসময় যমুনা ও সুবর্ণখালী নদীতে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ ছিল।

এ সময় নদীর পানি দিয়ে চাষাবাদ করা যেত। এসব নদীতে প্রচুর পরিমাণে ছোট-বড় নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। এখন এসবের কিছুই নেই। নদীগুলো আজ মৃত। পাওয়া যায় না মাছ। এ বিষয়ে প্রফেসর মো. আব্দুস ছামাদ বলেন, ছোটবেলায় দেখেছি আমার বাড়ির পাশের যমুনা নদীটির অনেক গভীরতা ছিল।

বর্তমানে এটি প্রায় মৃত হয়ে গেছে। নদীর বুকজুড়ে চর জেগে বালুর মাঠে পরিণত হয়েছে। এসব নদীগুলো খননের উদ্যোগ নেওয়া না হলে কয়েক বছর পর হয়তো আগামী প্রজন্ম জানতেই পারবে না এসব নদীর ইতিহাস। বিশ্বাস করতে চাইবে না, যমুনা নামে এতো বড় একটি নদী ছিল।

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনুপ সিংহ বলেন, নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ার কারণে নাব্যতা কমে যায় ফলে বন্যার সময় ফসলি জমিগুলোতে পানি ঢুকে ডুবে যায়। তাতে শত শত হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়াও কৃষক আগে নদী থেকে পানি তুলে সরাসরি ফসলের মাঠে পানি দিতো। কিন্তু বর্তমানে নদী শুকিয়ে যাওয়ার কারণে অন্য উপায়ে ফসলের মাঠে পানি দিতে হয় কৃষকদের। তবে দ্রুত এসব নদী খনন করা প্রয়োজন।