রাজা ভীম চন্দ্রের প্রাসাদ সংরক্ষণের দাবি
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
বখতিয়ার রহমান, পীরগঞ্জ (রংপুর)

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার স্মৃতি বিজরিত ও প্রাচীন নিদর্শন সম্বলিত একটি স্থান রাজা ভীম চন্দ্রের প্রাসাদ। সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টির অভাবে যেটির স্মৃতি চিহ্ন আজ বিলুপ্তির পথে। বেদখল হয়ে গেছে রাজপ্রাসাদসহ প্রায় ৩০ একর জমি! এখনও এ দখল প্রক্রিয়া অব্যহত রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য ও সরেজমিন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলার ভেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ভীমশহর মৌজায় এ রাজ প্রাসাদটির অবস্থান। কথিত আছে এক সময়ের প্রভাবশালী রাজা ছিলেন ভীম চন্দ্র।
তিনি উক্ত মৌজায় বসবাসের মাধ্যমে বিশাল এলাকা শাসন করতেন। তার বসবাসের জন্য সেখানে প্রায় ৮ একর আয়তনের জমির ওপর নির্মাণ করেন সুউচ্চ রাজ প্রাসাদ। চারপাশে বিশাল উঁচু প্রাচীরবেষ্টিত নিরাপদ প্রাসাদে অবস্থান করতেন রাজা ভীম চন্দ্র ও তার ছোট ভাই ভূবন চন্দ্রসহ পরিবারের সদস্যরা। যেখানে প্রতিপক্ষের আক্রমণের কোনো সামর্থ ছিল না। প্রাসাদ সংলগ্ন পূর্ব পাশে সুরক্ষিত ও উঁচু স্থানে ছিল তাদের হাওয়া খানা। সেখানে তারা উপভোগ করতেন নির্মল বায়ু। এ প্রাসাদটি এলাকাবাসীর কাছে এখন বুরুজ নামে পরিচিত। এ রাজ প্রাসাদ থেকে পূর্বে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে ছিল উঁচু পাড় বেষ্ঠিত এক বিশাল আয়তনের পুকুর। প্রায় ১৬ একর আয়তনের এ পুকুরে রাজা ভীম চন্দ্র ও তার পরিবারের সদস্যরা হাতির পিঠে চড়ে এ পুকুরে আসতেন এবং গোসল করতেন। যেটি এখন ভুয়ার পুকুর নামে পরিচিত। সে পুকুর ও পাড়ের অস্তিত্ব আজও বিদ্যমান থাকলেও পুকুরটি অনেকটাই ভরাট হয়ে গেছে। রাজা ভীম চন্দ্রের অন্য ভাই ভূবন চন্দ্রের গোসলের জন্যও ভুয়ার পুকুর থেকে অনতিদূরে ছিল পৃথক একটি পুকুর। যেটি এখন ছোট পকড়া নামে পরিচিত। কথিত আছে প্রায় ৬ একর আয়তনের এ পুকুরটিতে ভূবন চন্দ্র ও তার পরিবারের সদস্য পৃথক হাতির পিঠে চষে পুকুরটিতে গোসল করতে আসতেন। সেটির প্রায় ভরাট হয়ে গেলেও নাম মাত্র পুকুরটির অস্তিত্ব আজও বিদ্যমান রয়েছে।
এ প্রাসাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে দখলদারদের ভয়ে কেউ নিজেকে প্রকাশ করতে চান না। তবে তাদের অনেকে প্রতিক্রিয়ায় জানান, রাজা ভীম চন্দ্র ও ভুবন চন্দ্রের রাজপ্রাসাদটি মূল সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৩০ ফুট উঁচু ছিল। দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার লোকজন প্রাসাদের ইট ও সুড়কি নিয়ে যাওয়ায় কারণে এর উচ্চতা ১০ ফুট হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে রাজাদের জন্য ভুয়ার পুকুর ও ছোট পকড়া নামে যে দুটি বিশাল আয়তনের পুকুর ছিল সেগুলোও অনেকটাই ভরাট হওয়ার কারণে শুধু মাত্র পুকুরগুলোর অস্তিত্ব বিদ্যমান রয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কজন এ প্রতিনিধির কাছে অভিযোগ করে বলেন, রাজা ভীম চন্দ্র ও ভুবন চন্দ্রের রাজ প্রাসাদসহ তাদের গোসলের পুকুরগুলোসহ ৩০ একরের মতো জমি রয়েছে। কিন্তু সে জমিগুলো এলাকার কজন ব্যাক্তি তাদের দখলে নিয়ে সেগুলোতে চাষাবাদ ও মাছ চাষ করছেন।
এলাকাবাসী মনে করেন- রাজা ভীম চন্দ্র ও ভূবন চন্দ্রের রাজপ্রাসাদ ও তাদের জমিগুলোর ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের খতিয়ে দেখা উচিত। তাদের মতে জমিগুলো বেদখল হয়ে গেছে। বেদখলকৃত জমিগুলো উদ্ধারের সম্ভাবনার পাশাপাশি রাজপ্রাসাদ ও পুকুর ২টি সংরক্ষণের মাধ্যমে এ স্থান থেকে সরকারের মোটা অঙ্কের রাজস্ব আদায়ও সম্ভব। তাই এলাকাবাসী এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
