দর্শনায় বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে জখম
বিক্ষোভ, থানা ঘেরাও
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গা দর্শনা পৌর এলাকার ঈশ্বরচন্দ্রপুরে রিপন নামে এক বিএনপির কর্মীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী খাইরুলসহ তার লোকজন। গত রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। আহত রিপন দর্শনা থানাধীন ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ খবর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সন্ধ্যায় রিপন বাড়ি থেকে ইফতার শেষ করে পার্শ্ববর্তী ঈশ্বরচন্দ্রপুর জামে মসজিদে নামাজ পড়ার উদ্দেশে প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করার সময় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী খায়রুল ও হাশেমসহ ১০-১৫ জন তার উপরে হামলা করে। এরপর তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলার পর সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে রেফার করেন এবং পরবর্তীতে তাকে রাজশাহী পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত হাসেম) ও খায়রুল কামড়ি গং এবং বিএনপি কর্মী রিপনের মধ্যে আগে বাগবিতণ্ডা হয়। এ বিরোধের জেরধরেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি বিএনপি নেতাদের। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার প্রতিবাদে রাত ৯টার দিকে দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক নারুল ইসলাম মাস্টারের নেতৃত্বে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পরে তারা দর্শনা থানা ঘেরাও করে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
দর্শনা পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক মো. হাবিবুর রহমান বুলেট বলেন, রিপনের ওপর হামলা পরিকল্পিত। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই ইফতার শেষে মসজিদে যাওয়ার পথে তাকে হত্যার উদ্দেশে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি করছি।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, রিপন নামে একজনকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হামলার পর থেকে ঈশ্বরচন্দ্রপুর ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
