গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের চারজন
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অবৈধ গ্যাস সংযোগের লাইন থেকে গ্যাসের প্রেসার লিকেজ হয়ে সৃষ্ট বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে দাউদকান্দি পৌরসদরের পশ্চিম মাইজপাড়া (বলদাখাল) নামক স্থানে একটি তিনতলা ভবনের নিচতলায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ হয়। তারা হলেন মনোয়ারা, জিলহক, উম্মে হুমায়রা ও হুররাম। দগ্ধ অবস্থায় তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দির পশ্চিম মাইজপাড়া (বলদাখাল) এলাকা থেকে দগ্ধ অবস্থায় নারী শিশুসহ একই পরিবারে চারজনকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে মনোয়ারা বেগমের শরীরের দুই শতাংশ, জিলহকের শরীরের ৫৪ শতাংশ, উম্মে হুমায়রা শরীরের ৬৫ শতাংশ ও শিশু হুররামের শরীরে ৬ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, জিলহক ও উম্মে হুমায়রার দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্য দুই জনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিম মাইজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানায়, বাড়ির মালিক পিয়ার হোসেনের বিল্ডিং এ অবৈধ গ্যাস সংযোগ থাকায় আনুমানিক চার মাস পূর্বে বাখরাবাদ গ্যাস সিষ্টেম লিমিটেডের কর্মকর্তাবৃন্দ অবৈধ গ্যাস সংযোগের দায়ে লাইনটি বিচ্ছিন্ন করে দেয়। গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আবারও অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেয় বাড়ির মালিক পিয়ার হোসেন। বাড়ির ভাড়াটিয়া গ্রামীণ ব্যাংকে কর্মরত জিলহকের স্ত্রী উম্মে হুমায়রা সেহেরি তৈরি করার সময় গ্যাসের চুলায় মেস লাইট দিয়ে আগুন জ্বালাতে গিয়ে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে একই পরিবারের চার জন দগ্ধ হয়েছে। বিস্ফোরণের শব্দ পেয়ে আশেপাশের লোকজন এসে আহতদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠান।
দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন ইন্সপেক্টর মো.এরশাদ হোসেন বলেন, অগ্নিদগ্ধের খবর পেয়ে ভোর পাঁচটায় আমরা একটি টিম পাঠাই। ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। আমাদের টিম পৌছানোর আগেই আহতদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি, গ্যাস লাইন লিকেজ হয়ে ঘরের ভিতরে গ্যাস জমে ছিল। ভোর রাতে রান্নার জন্য চুলায় আগুন জ্বালানোর চেষ্ঠা করলে হঠাৎ গ্যাসের বিস্ফোরণ ঘটে। দাউদকান্দি পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। গ্যাস লাইন লিকেজ হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করা হবে।
