সরকারি গাছ কর্তন, বিএনপি নেতার পদ স্থগিত

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কর্তনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তার সব দলীয় পদ স্থগিত থাকবে বলেও উল্ল্যেখ করা হয়।

এলাকাবাসী জানায়, বিএনপি সভাপতির বাড়িতে যাতায়াতের পথ সুগম করতে উপজেলার ২ কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে নির্মিত বেড়িবাঁধে রোপণ করা প্রায় ২০টি মেহগনি গাছ ব্যক্তিগত স্বার্থে কেটে ফেলার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে। বিষয়টি দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এলাকাবাসী আরও জানায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নদীভাঙন ঠেকাতে ওই বেড়িবাঁধে গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলো এলাকাবাসীর কাছে ভাঙনরোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে প্রবেশ করতে হলে বাঁধের ওপর দিয়েই যেতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে চলাচলে কিছুটা অসুবিধা হওয়ায় গত ৫ আগস্টের পর থেকে একে একে গাছ কাটা শুরু হয়। সর্বশেষ ২১ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ১০ থেকে ১২টি গাছ কেটে ফেলা হয়। প্রতিটি গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বলে দাবি করেন তারা।

এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার মিঠামইন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ী আঙ্গুর মিয়ার নাম উল্ল্যেখ করে অজ্ঞাত আরও দুই থেকে তিন জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে, এ মামলায় আসামি করা হয়নি মূল অভিযুক্ত মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে।

এ বিষয়ে মামলার বাদী বলেন, স্থানীয়দের কাছে জানতে পেরেছি গাছগুলো কেটে নিয়ে গেছে গাছ ব্যবসায়ী আঙ্গুর মিয়া। তাই তার নাম উল্ল্যেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত করলে সব বেরিয়ে আসবে, আশা করছি।