মৌরি চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
মশিয়ার রহমান, কেশবপুর (যশোর)

যশোরের কেশবপুরে মৌরি চাষে লোকসান হওয়ায় এ আবাদে এলাকার কৃষকরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। গত বছর সাড়ে ৩৭ বিঘা জমিতে মৌরি আবাদ হয়েছিল। তবে এবার সেটা কমে ৩০ বিঘায় এসে দাঁড়িয়েছে। এ চাষে লাভের চেয়ে লোকসানের শঙ্কা থাকায় প্রতিবছর আবাদ কমে যাচ্ছে এবং চাষিরা মৌরি আবাদ থেকে সরে আসছেন বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে। মৌরি দেখতে অনেকটাই জিরার মতো। অবসরে মুখশুদ্ধি হিসেবে বা পান খাওয়ার সময় মৌরি খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। বিশেষ করে হোটেল বা রেস্টুরেন্টে খাবারের পর মৌরি খেতে দেওয়া হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কেশবপুরে মাত্র ৩০ বিঘা জমিতে মৌরির আবাদ হয়েছে। গত বছর সাড়ে ৩৭ বিঘা জমিতে মৌরি চাষ করেছিলেন কৃষকরা। সে কারণে এ বছর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল সাড়ে ৩৭ বিঘা। কিন্তু চলতি বছর এ উপজেলায় সাড়ে ৭ বিঘা জমিতে মৌরি চাষ কম হয়েছে। উপজেলার গৌরীঘোনা, মঙ্গলকোট ও মজিদপুর এলাকার কৃষকরা এ চাষ করেছেন। এছাড়া অন্যান্য ইউনিয়নে অল্প চাষ হয়েছে। কৃষকরা অন্য ফসলে লাভবান হওয়ায় মৌরি আবাদ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন।
উপজেলার মজিদপুর এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও এখানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মৌরির আবাদ হত। ইউনিয়নটির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ভদ্রা নদীর তীরে বীজ ছিটিয়ে দিলেই এর ব্যাপক ফলন পাওয়া যেত। ধীরে ধীরে এখানেও মৌরি আবাদ কমে গেছে বলে কৃষক আবদুল লতিফ জানান। গৌরিঘোনা এলাকায় গেলে একই কথা বলেছেন কৃষকরা।
উপজেলার পাঁচপোতা গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, গতবছর তিনি ২ বিঘা জমিতে মৌরি আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছিলেন। এবারও তিনি ২ বিঘা জমিতে মৌরি আবাদ করেছেন। কিন্তু ঠিকমত বৃষ্টি না হওয়ায় ক্ষেতে গাছের সংখ্যা কম হয়ে গেছে। যে কারণে ফলন কম পাবেন বলে ধারণা করছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল আলম বলেন, এলাকার কৃষকেরা অন্যান্য ফসলসহ মৌরি চাষ করে লাভবান হয়। কিন্তু বাজার দর ভালো না এবং অন্যান্য ফসলে অতিরিক্ত লাভবান হওয়ায় এবছর মৌরি আবাদ কম করেছেন কৃষকেরা।
উপজেলার কাস্তা গ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘বছর তিনেক আগে সর্বশেষ প্রায় এক বিঘা জমিতে মৌরি চাষ করেছিলাম। জমি প্রস্তুত, রোপণ, সার, কিটনাশকসহ আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে লোকসান হওয়ায় এ চাষ ছেড়ে দিয়েছি। খরচের তুলনায় বাজারমূল্যে কম পাওয়ায় আমার মতো অনেকেই এ আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ওই জমিতে অন্য ফসল আবাদ করে এখন বেশ লাভবান হচ্ছি।’
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এলাকার কৃষকরা অন্যান্য ফসলসহ সবজি চাষ করে ব্যাপক লাভবান হওয়ায় মৌরি চাষ বন্ধ করে দিয়েছেন। গত বছরের তুলনায় এ বছর মৌরি আবাদ কম হয়েছে।
