ইটভাটা গিলে খাচ্ছে ফসলি জমি

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ফেনী প্রতিনিধি

পরিবেশ আইন অমান্য করে কয়েক মাস ধরে ফেনী জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১০৩টি ইটভাটায় রাতের আঁধারে কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে যেমন জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্যও। সন্ধ্যা হতেই চলাচল শুরু করে মাটিভর্তি শতাধিক ট্রাক ও পিকাপ, চলে রাতভর। মাটিবাহী ট্রাকের প্রভাব পড়ছে সড়কগুলোতেও। রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযানে জরিমানা আদায়, স্কেভেটর ও ট্রাক্টর জব্দ করে থামানো যাচ্ছে না মাটি খেকোদের কালো থাবা, মাটি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়ে চলেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া, শর্শদী, বালিগাঁও, ছনুয়া, মোটবী, কাজিরবাগ, দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর, জায়লস্কর, সিন্দুরপুর, রামনগর, এয়াকুবপুর, মাতুভূঞাসহ ফুলগাজী, পরশুরাম ও সোনাগাজী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষি জমিগুলো থেকে রাতের আঁধারে কাটা হচ্ছে উর্বর ফসলি জমির মাটি। বছর দশেক ধরে চলছে এই ধরনের মাটিকাটা।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বিগত এক মাসে জেলার বিভিন্ন স্থানে রাতের বেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ফসলি জমির উর্বর মাটি কাটার বিরুদ্ধে ২৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় প্রায় ২১ লাখ ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড ও ৭ জনকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি জব্দ করা মাটি কাটার বিভিন্ন উপকরণ। কিন্তু এসব অভিযান ও জরিমানাসহ দণ্ড দিয়েও রক্ষা করা যাচ্ছে না ফসলী জমির উর্বর মাটি। ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়ার ডমুরুয়া এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহিম বলেন, কাটাখালি ব্রিজের পাশে নদীর পারের এলাকা থেকে বিএনপি নেতা মোজাম্মেল হক হকসাবসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। ধ্বংস করা হচ্ছে কৃষিজমি। এছাড়া পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে মাটি কেটে নিয়ে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। ভগবানপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ভগবানপুর-লক্ষ্মীয়ারা দেড় কিলোমিটার সড়কটি প্রায় ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পাকা করা হয়েছে।