উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে দিশাহারা বৃদ্ধ দম্পতি

প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া গ্রামে উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন এক বৃদ্ধ দম্পতি।

ছকিনা খাতুন বলেন- রোন (ঋণ) তুলে ভ্যানডা কিনিছিলাম। শুধু ১৭ডা কিস্তি গেছে। এখনও অর্ধেকও যায়নি। আর ভ্যানকেন এ্যাম্বো হারা গেল। সবজাগা খুঁজেও পালোনা। গরিব মানুষ। ভ্যান কিনার টাকা নাই। এখন বসে বসে আছে। বড় ছোয়ালডা ভাটায় ইটকাটা কাম করতেছে। কয়ডা করে আনতেছে। তাই খওয়া হচ্ছে। এ্যাম্বা আর কয়দিন যাবিনি? রোন দেবো, নাকি চাল কিনে খাব? কেউ একখান ভ্যান দিলে আবার চলতি পারতাম।

তিনি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া গ্রামের ভ্যানচালক মনোব্বর শেখের স্ত্রী। সংসারের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ব্যাটারিচালিত ভ্যান চুরি হওয়া দিশেহারা হয়েছে পড়েছেন তারা। ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী মনোব্বরের বয়স প্রায় ৬৫ বছর। তার শরীরে বাসা বেঁধেছে এ্যাজমা, হার্ট, হাঁপানী, শ্বাসকষ্টসহ নানান রোগ। এই অবস্থায় বিশ্রাম ও আরাম আয়েশে দিনযাপনের কথা। কিন্তু স্ত্রী, দুই ছেলে, ছেলের বউ ও নাতিসহ ৬ জনের সংসারে অভাব অনটন থাকায় ভ্যান চালিয়ে জীবিকার্জন করতেন। কিন্তু গত ১৮ ফেব্রুয়ারী ভোরে নিজ বাড়ি থেকে তার ভ্যানটি চুরি হয়ে যায়। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ভ্যানের সন্ধান পাননি। রোববার তিনি কুমারখালী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। জানা গেছে, মনোব্বরে টিনশেডের দোচালা দুইটি ঘরের তিনটি কক্ষে স্ত্রী, সন্তান, নাতি ও ছেলের বউসহ ৬ জনের বাস। প্রায় ১০ বছর আগে ৩০ হাজার টাকায় ভ্যানটি কেনা হয়। তবে সম্প্রতি একটি এনজিও থেকে ২৮ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ভ্যানটিতে নতুন ব্যাটারি লাগানো হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দোচালা টিনের ঘরের বারান্দা নেই। ঘরের সামনে ভ্যান রাখার স্থান। সেখানে বিদ্যুতের সারঞ্জামাদি থাকলেও নেই ভ্যান। কিস্তির বই হাতে ঘরের দরজায় বসে আছেন স্বামী-স্ত্রী। চোখে মুখে হতাশার ছাপ।

এ সময় মনোব্বর বলেন, ‘আমার এ্যাজমার সমস্যা, হার্টের সমস্যা। হাকো (হাঁপানী) লাগে। আমি চলতি পারিনে। ব্যাটারির ভ্যান বলে কোনোমতে চলতাম। সে ভ্যানডাও হারা গেছে। এখন বাড়িতে বসে আছি। বড় ছোয়াল ভাটায় কামকাজ করে কয়ডা খাবার দিচ্ছে। এই কোনোভাবে চলছে। কেউ একটা ভ্যান দিলে চালা-চুলো খাতাম’। তার ভাষ্য, ঘটনার দিন ফজরের নামাজ পড়তে উঠে দেখেন তার ভ্যানটি নেই। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ভ্যানটি না পেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, মনোব্বর খুবই অসহায়, অসুস্থ ও গরিব মানুষ। এই বয়সে তার বিশ্রাম নেওয়ার কথা। কিন্তু সংসারে অভাব অনটন থাকায় ভ্যান চালিয়ে চলতো। কিন্তু ভ্যানটি চুরি হওয়ায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে পরিবারটি।

কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, লিখিত অভিযোগটির তদন্ত চলছে। ভ্যানটি উদ্ধারে তৎপর রয়েছে পুলিশ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, লিখিত আবেদন করা হলে বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপক্ষে সহযোগিতা করা হবে। এছাড়াও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।