আজ শুরু লালন স্মরণোৎসব

প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  এ.এইচ.এম.আরিফ, কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় আখড়াবাড়িতে দোলপূর্ণিমা তিথিতে প্রতিবছর তিন দিনব্যাপী সাড়ম্বরে উদযাপিত হয় বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের স্মরণোৎসব। আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণ সাধু-গুরু, লালনভক্তদের সরব উপস্থিতি, গান ও গ্রামীণ মেলায় জমজমাট হয়ে উঠলেও এবার রমজানের কারণে সোমবার দুপুর থেকে পরের দিন দুপুর পর্যন্ত উদযাপিত হবে লালন স্মরণোৎসব। থাকছে না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা।

সাংস্কৃতিকবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শুধু আলোচনা অনুষ্ঠান ও বাউলদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়েই মঙ্গলবার দুপুরে শেষ হবে আয়োজন। সাধুসঙ্গ চলবে রীতি অনুসারে। এ তথ্য জানিয়েছেন আখড়াবাড়ির ভারপ্রাপ্ত খাদেম মশিউর রহমান। এদিকে উৎসব উপলক্ষে কয়েক দিন আগে থেকেই আখড়াবাড়িতে আসতে শুরু করেছেন লালন ভক্ত বাউল ফকিররা। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে লালনের গান। তারা দলে দলে ভাগ হয়ে আসন পেতে বসেছেন। করছেন নিজেদের মধ্যে ভাব বিনিময়।

আমেরিকান প্রবাসী মিজানুর রহমান বলেন, ছোটবেলা থেকেই লালনের গান শুনে আসছি। সেই টান থেকেই প্রথমবারের মতো আখড়াবাড়িতে আসা। এখানে বসে বাস্তবতা অনুভব করলাম। তার ভাষ্য, ফকির লালন সাঁইজি জাতি, বর্ণ, ধর্ম নির্বিশেষে মানব প্রেমের কথা বলে গেছেন।

চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা শান্ত ফকির বলেন, শুভ কাজ করতে গেলে একটা শুভ দিন লাগে। সেই শুভ দিন উপলক্ষে এই দোলপূর্ণিমা পূর্ণ হয়। তাই এই দিনে লালন ফকির গুণীজ্ঞানী ও ভক্তদের নিয়ে একটা সমাবেশ করতেন। সেই আলো থেকেই আমরা গুরু পরম্পরা এসে থাকি সাঁইজির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকে। এখানে এলে আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে জ্ঞানচর্চা হয়, তাত্ত্বিক উন্নতি হয়, মানসিক উন্নতি হয়। আখড়াবাড়ির ভারপ্রাপ্ত খাদেম মশিউর রহমান বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় গুরু কার্য দিয়ে শুরু হবে সাধুসঙ্গ।

এরপর রাখাল সেবা, মধ্যরাতে অধিবাস, মঙ্গলবার ভোররাতে বাল্যসেবা এবং দুপুরে পূর্ণসেবার মধ্যদিয়ে সাধুসঙ্গ শেষ হবে। পবিত্র মাহে রমজানের কারণে এবার অনুষ্ঠান সীমিত। লোকসমাগমও অনেক কম হতে পারে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাজার সংলগ্ন এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। আগত বাউল সাধক, ভক্ত, অনুরাগী এবং দর্শনার্থীদের সহযোগিতার জন্য গ্রাম পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।