মানুষকে দেখানোর জন্য অযথা খরচ বন্ধ করতে হবে
বললেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নাটোর প্রতিনিধি

মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, বিগত সময়ে মানুষকে দেখানোর জন্য অযথা খরচ করা হয়েছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে। আমাদের মাথায় রাখতে হবে, দেশের একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে আমরা সরকার পরিচালনার দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছি। গতকাল রোববার নাটোরের লালপুরে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলসের শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত কমিটির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন তিনি। সুগার মিলের শ্রমিক কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবির প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলকে একটি সিস্টেমে নিয়ে আসবো। এরপর আখচাষি, শ্রমিক এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি চমৎকার সমন্বয় করে এই নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের উৎপাদন ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে একটি আধুনিক সুগার মিল তৈরি করতে যা যা প্রয়োজন সব আমি করব, ইনশাআল্লাহ।
সুগার মিলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বকেয়া পেনশনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের যারা অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী রয়েছেন, তাদের অনেকের এখন পর্যন্ত পেনশনের টাকাটা তাদের কাছে পৌঁছায় নাই। আমাকে বলা হয়েছে, ঈদের আগে বিষয়টা দেখার জন্য। আমি চেষ্টা করব, ঈদের আগে হোক বা পরে হোক অনতিবিলম্বে যেন এই পেনশনের টাকা তাদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা যায়।
ফারজানা শারমিন বলেন, সুগার মিলে এখন যে উৎপাদন উৎপাদন ক্ষমতা আছে প্রতিদিন ১৫০০ মেট্রিকটন। যদি আমরা এটাকে সিস্টেমে নিয়ে আসতে পারি, প্রযুক্তি উন্নত করতে পারি, যদি আমরা এই সুগার মিলকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে পারি, তাহলে আমাদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়তে পারে। উৎপাদন ক্ষমতা বাড়লে আমরা স্বনির্ভর হতে পারি। তিনি আরও বলেন, আমাদের যে মোলাসেসগুলো এখান থেকে উৎপাদিত হয়, এই মোলাসেসগুলো আমরা বিভিন্ন জায়গায় দিয়ে দিই। কিন্তু আমরা যদি আমাদের নিজেদের মোলাসেস নিজেরা ব্যবহার করে ডিস্টিলারি তৈরি করতে পারি তাহলে কিন্তু আমাদের এই জায়গাটা আরও অনেক বেশি উন্নত হবে। আরও অনেক বেশি কর্মের স্থান তৈরি করতে পারব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া, লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলহাস হোসেন সৌরভ, লালপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক হামিদুর রহমান বাবু প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে তিনি উপস্থিত শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুগার মিল পরিদর্শন করেন। পরে বাগাতিপাড়া উপজেলায় পৌঁছালে থানা-পুলিশের একটি দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এরপর তিনি বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।
