সিরাজগঞ্জে সূর্যমুখীর আবাদ বেড়েছে
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
এস,এম তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে এবার সুর্যমুখী ফুল চাষে বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। কম খরচে লাভজনক এ চাষে ঝুঁকে পড়েছে কৃষকরা। মাঠজুড়ে এ ফুলের হলুদের সমারোহের সৃষ্টি হয়েছে। এ ফুলের দৃশ্য উপভোগে প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে যাচ্ছে সুর্যমুখী মাঠে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে সুর্যমুখী চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নির্ধারণের চেয়ে এবার এ সূর্যমুখী ফুল চাষ বেশি হয়েছে। এ ফুল চাষ বেশি হয়েছে যমুনা নদীর তীরবর্তী কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। এছাড়া তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া ও কামারখন্দ উপজেলাতেও এ ফুল চাষাবাদ হয়েছে। বিশেষ করে পড়ন্ত বিকেলে ফুলপ্রেমিরা সূর্যমুখী ফুলের মাঠে যায় এবং তারা সেলফিও তুলছে অন্যরকম আনন্দে। এ ফুলের দৃশ্য ঘিরে প্রেম ছন্দে কবিতাও লিখে অনেকে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রায় আড়াই মাস আগে কৃষকরা জমিতে এ ফুলের বীজ বোপণ করে এবং লাভজনক এ চাষে ঝুঁকে পড়েছে কৃষকরা। এবার এ চাষে বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। জমিতে এ ফুলের বীজ বোপণের পর ফসল উৎপাদনে ৩ মাসের বেশি সময় লাগে। প্রতি হেক্টর জমিতে ১.৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।
এতে অনাবাদি ও পতিত জমিতে এ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে কৃষকরা এবং ফসলি জমিতেও এই ফুল চাষ করা হয়েছে। এ সূর্যমুখী ফুল চাষে খরচ কম লাভ বেশি। বাজারে সূর্যমুখীর তেলের চাহিদা বাড়তে থাকায় ভালো দামও পাচ্ছে কৃষকরা। প্রতি কেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা লিটার তেল উৎপাদন হয়ে থাকে। বাজারে এখন প্রতি লিটার সূর্যমুখী তেলের দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। আর বাজারে নতুন সূর্যমুখী তেল উঠলে চাহিদাও বাড়ে।
স্থানীয় কৃষিবিদরা বলছেন, এ সূর্যমুখী ফুলের উৎপাদিত বীজ থেকে হাঁস-মুরগির খাবার প্রস্তুত করা হয় এবং তেলের উৎস হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে এবং বীজে থাকা লিনোলিক এসিড হৃৎপিণ্ডের জন্য উপকারী। এ কারণে এ ফুল বীজের চাহিদা বাজারে ক্রমাগতভাবে বাড়ছে।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক একেএম মঞ্জুরে মাওলা আলোকিত বাংলাদেশকে জানান, সিরাজগঞ্জে এবার ২৮০ হেক্টর জমিতে এ ফুল চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। লাভজনক এ চাষে কৃষকেরা বেশি চাষ করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
