মুরাদনগরে ফসলি জমি রক্ষায় প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কৃষি জমি রক্ষা ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৪টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন ও প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে। এসময় বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে এক ব্যক্তিকে বড় অংকের অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবদুর রহমান-এর নির্দেশনায় গত বুধবার দিনব্যাপী এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব সাকিব হাছান খাঁনের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযান চলাকালে আকুবপুর ইউনিয়নের পীর কাশিমপুর এলাকা হতে ২টি ড্রেজার এবং প্রায় ২০০০ ফুট অবৈধ পাইপলাইন অপসারণ করা হয়। এসময় বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ (সংশোধিত ২০২৩) অনুযায়ী কাইয়ুম নামের এক ব্যক্তিকে ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই দিনে শ্রীকাইল ইউনিয়নের পাহাড়পুর ও কালারাইয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ২টি ড্রেজার এবং প্রায় ১৫০০ ফুট পাইপ ধ্বংস করে সেচ কার্যক্রম ও বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খাঁন জানান, রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৮১ ধারা অনুযায়ী কোনো রায়তি বা ভূমি মালিক ভূনিম্নস্থ সম্পদের ওপর অধিকার দাবি করতে পারেন না। তিনি বলেন, অবৈধ ড্রেজারের কারণে ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। কৃষি জমি রক্ষায় আমাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের এই তড়িৎ ও কঠোর পদক্ষেপে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মুরাদনগরের সাধারণ মানুষ প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরণের অভিযান নিয়মিত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মাটিকাটা বা বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
