পেঁয়াজের বীজ চাষে ঝুঁকছেন কৃষক
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
এএইচএম আরিফ, কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সবুজের সমারোহ এখন পেঁয়াজ খেত। রূপ পাল্টে সাদা গোল গোল বীজ কদম কৃষকের বিপুল লাভের আশায় পরিণত হয়েছে। সাদা ফুল ছেড়ে সবুজ-সাদা সোনা কালো সোনায় রূপান্তরিত হবে অচিরেই। উপজেলায় ২২০ বিঘা জমিতে চাষ হচ্ছে পেঁয়াজের কদম বা বীজ, যা প্রায় ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকা বাণিজ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত বছরের থেকে কুমারখালীতে বেড়েছে পেঁয়াজের বীজ চাষ। উৎপাদন ভালো হওয়ায় ও অধিক লাভের আশায় পেঁয়াজের বীজ চাষে ঝুঁকছে কুমারখালীর কৃষকেরা। চলতি মৌসুমে জগনাথপুর, চাপড়া, যদুবয়রা, শিলাইদহসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পেঁয়াজের বীজ চাষ করছে কৃষকেরা। প্রতি বিঘায় ১ লাখ টাকা খরচে লাভ হচ্ছে প্রায় ৫ লাখ টাকা।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে এই বীজ চাষে ভালো ফলনের আশা করছে চাষিরা। ১৫-২০ দিন পরে বীজ ঘরে তুলবেন চাষিরা। সুপার কিং, লাল তীর, হাইব্রিড, হিমাশকেল, সুখ সাগর নামে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করছে তারা। মান ও আকারভেদে প্রতি কেজি বীজের দাম দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা।
কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় উপজেলায় প্রতি বছরই বাড়ছে পেঁয়াজ বীজের উৎপাদন। উৎপাদন করা এ বীজকে কৃষকেরা তুলনা করছে সোনার সঙ্গে। কৃষকদের অনুপ্রেরণা জোগাতে সব ধরনের সহযোগিতা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। চাষিদের ফুলের ওপর হাত দিয়ে পরাগায়ণ কীভাবে করতে সে বিষয়েও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।
কৃষকরা জানিয়েছে- সার, বীজ ও মজুরের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজ চাষে খরচ হচ্ছে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আবহাওয়া ভালো থাকলে বিঘা প্রতি উৎপাদন হবে ৬ লাখ টাকা। পেঁয়াজের বীজ চাষ ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও উপজেলার অনেক কৃষক এই চাষকে প্রাধান্য দিয়েছে। আগামীতে আরও বড় পরিসরে এই চাষ করার কথা জানায় তারা।
কুমারখালী উপজেলার বিলকাটিয়া গ্রামের চাষি শাহিন হোসেন চলতি মওসুমে ১৭ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছে। এর মধ্যে লাল তীর কিং হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজের বীজ কদম করেছে সাড়ে ৬ বিঘা জমিতে। ফলন ভালো হবে বলে তার বিশ্বাস।
উপজেলার মহেন্দ্রপুরের সফল কৃষক আবু তালেব বলেন, এবার ৩৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজ চাষ করেছি।
কদম চাষ করে অন্যান্য ফসলের তুলনায় অধিক লাভবান হওয়া যায় তাই আমার মতো অনেক কৃষক কদম চাষ করছে। আগে অনেকেই শুধু নিজেদের জন্য করতেন, বর্তমানে অনেকে বাণিজ্যিকভাবে কদম চাষ করছেন। পেঁয়াজের ফুল (কালো সোনা) চাষ করে ভাগ্য বদল করেছে কৃষক আবু তালেব। তিনি চাকুরি ছেড়ে এলাকায় এসে পেঁয়াজের বীজ চাষ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তালেবের ভাষ্য, রোপণকৃত পেঁয়াজ, পরিচর্চা, জমির ইজারাসহ প্রতি বিঘায় খরচ লেগেছে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। সবমিলে ৩৫ বিঘা জমিতে বীজ চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১৮-২০ লাখ টাকা। ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকায় পেঁয়াজ বীজ বিক্রি করার আশা করছি।
এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম বলেন, চলতি বছর কুমারখালী উপজেলার ৪ হাজার ৯২৮ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে পেঁয়াজের বীজ। কৃষিতে সম্পৃক্ততা বাড়লে বাড়বে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তৈরি হবে কর্মসংস্থান।
কৃষি বিভাগ ও চাষিরা আশা করছে আবহাওয়া ভালো থাকায় চলতি বছরে প্রায় ৩০ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদন হবে যার বাজার মূল্য ১৬ কোটি টাকা। এতে একদিক যেমন সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান অন্যদিকে লাভবান হবে কৃষকেরা।
