আমের মুকুলে সেজেছে প্রকৃতি
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
কাজী বাবলা, পাবনা

পাবনায় আম গাছের ডাল জানান দিচ্ছে মধুমাসের আগমনী বার্তা। শীতের জড়তা কাটিয়ে কোকিলের সেই মধুময় কুহুতানে মাতাল করতে আবারও ফিরে এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। মধুমাসের স্বাদ নিতে বাকি মাত্র কয়েক দিন।
তবে সুখের ঘ্রাণ বইতে শুরু করেছে। গাছে গাছে। সোনালি হলুদ রঙের আমের মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের ডাল। বাতাসে মিশে আসে মুকুলের ম ম ঘ্রাণ। যে ঘ্রাণ মনকে বিমোহিত করার পাশাপাশি জানান দিচ্ছে মধুমাসের আগমনী বার্তা। মৌমাছির দল ঘুরে বেড়াচ্ছে গুনগুন শব্দে। ছোট পাখিরাও মুকুলে বসছে মনের আনন্দে। এমন দৃশ্যের দেখা মিলেছে পাবনার সর্বত্রই। রঙিন বনফুলের সমারোহে প্রকৃতি যেমন সেজেছে বর্ণিল সাজে। তেমনি সেজেছে পাবনার বিভিন্ন উপজেলার আমবাগান ও ব্যাক্তি উদ্যোগে বাড়ির আঙ্গিনায় লাগানো আমগাছ গুলো। চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৭৫১ হেক্টর জমির আমগাছে মুকুল এসেছে। যা থেকে ৩৭ হাজার ৩৬ মেট্রিক টন ফলনের আশা করা হচ্ছে।
পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে এ বছর মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলে ভরে গেছে বাগানসহ ব্যক্তি উদ্যোগে বাড়ির আঙ্গিনায় লাগানো আমগাছগুলো। এ বছর জেলায় বাগান মালিকরা জানান, গাছে মুকুল আসার আগে থেকেই তারা গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। যাতে করে গাছে মুকুল বা গুটি বাঁধার সময় কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হয়। মুকুলে রোগ বালাইয়ের আক্রমন থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করা হচ্ছে। এ অঞ্চলে দেশি আমের পাশাপাশি আম্রপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি জাতের আম অন্যতম।
পাবনা সদর, সাথিয়া, সুজানগর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, চাটমোহরসহ কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, আম গাছে শোভা পাচ্ছে শুধুই মুকুল। এ যেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন।
মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। চারদিকে ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত ঘ্রাণ। তবে বড় আকারের চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল ফুটেছে।
সুজানগর উপজেলার উপেন্দ্রনগর গ্রামের ময়েন উদ্দিন বলেন, চার বছর আগে তিনি আমের চাষ শুরু করে। প্রথম পর্যায়ে সামন্য পরিমানের জমিতে পরিক্ষামূলক ভাবে আম চাষ শুরু করেন তিনি। প্রথম বছরেই লাভ করায় জমির পরিমান বাড়িয়ে শুরু করে আম চাষ। বর্তমানে তার বাগানের আমগাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ গাছ মুকুলে ছেয়ে গেছে। মুকুলের মণ্ডম গন্ধে তার চোখে ভাসছে স্বপ্ন।
পাবনা শহরের শালগাড়িয়া এলাকার মিলন নামের এক ব্যাক্তি বলেন, তার বাড়িতে পাঁচটি আমের গাছ আছে। প্রতিটি গাছে মুকুলে ছেয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। এ অবস্থা থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে।
পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক জানান, পাবনার আবহাওয়া ও মাটি আম চাষের জন্য উপযোগী। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমের ফলন বিগত বছরের তুলনায় অনেক বেশি পাওয়ার আশা করা যাচ্ছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে মুকুলগুলো নষ্ট হবার সম্ভাবনা নেই। আমের মুকুল আসার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কি কি পরিচর্যা করতে হবে তা কৃষি অফিস সব সময় পরামর্শ দিয়ে আসছে।
চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৭৫১ হেক্টর জমির আম গাছে মুকুল এসেছে। যা থেকে ৩৭ হাজার ৩৬ মেট্রিক টন ফলনের আশা করা হচ্ছে।
