উপজেলা পরিষদের পরিত্যক্ত জমিতে সবজি চাষ

প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নুর উল্লাহ আরিফ, চরফ্যাশন (ভোলা)

পরিত্যক্ত ভূমি, ময়লা আবর্জনার স্তুপ, যেন ময়লার ভাগাড়! কারও নজর দেওয়ার ফুসরত নেই, সেখানেই নজর দিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকতা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা। দৃষ্টি সবার ফিরিয়ে নিলেন সেখানে। সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করলেন। পরিত্যক্ত ভূমি এখন সবুজের চত্বর। শীতকালীন লাল-সবুজ সবজির সমারোহ। সবার দৃষ্টি এখন উপজেলা পরিষদের নির্জন আঙিনা ঘিরে। অনুকরণীয় -অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত রাখায় অনেকেই এখন নিজ বাসার অব্যবহৃত আঙিনায় সবজি চাষে এগিয়ে এসেছেন।

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের সরকারি কোয়ার্টারের আশপাশের ভূমিতে রয়েছে শীত মৌসুমের নিরাপদ পুষ্টি সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর নানা সবুজ সবজির মিতালি। ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, টমেটো, পেঁয়াজ, শিম, মরিচ, আলু, শসা, পিয়াজ, কুমড়ো, রসুন ও ব্রকলিসহ নানা জাতের সবজি বাগান। নিরাপদ ও স্বাস্থ্য সমৃদ্ধ পরিচর্যায় সবজি বাগানে এলাকার পরিবেশের মান বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকের এসব বাগান এখন অলস সময় কাটানোর মাধ্যম হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নিজস্ব উদ্যোগে গড়ে উঠা পরিকল্পিত সবজির বাগান এরইমধ্যে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সরকারি কয়েকজন কর্মকর্তা তাদের সরকারি বাসার আঙিনায় সবজি চাষে নিজেদের মনোনিবেশ করেছেন। তারাও ফলাতে শুরু করেছেন শিম, বরবটি, শশা, আলু, মরিচ, ফুলকপি, ব্রকলি। প্রাথমিকভাবে তাদের বাগানেও সবজির ভাল ফলন হয়েছে। আগামিতে আরও অনেকে এভাবে বাসার আঙিনার অব্যবহিত অংশে সবজির চাষের আগ্রহ দেখিয়েছেন।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদের পতিত জমিতে ৩টি ছোট ছোট প্লট মিলে প্রায় ৫ শতাংশ জমিতে সারাবছর সবজি চাষ করে নিজেদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করছেন। সূত্র আরও জানায়, এখানে কৃষির আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। সবজি ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে কালিকাপুর মডেল বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি হিসেবে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা হয়েছে। এছাড়াও নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য জৈব সার ব্যবহার, বালাই দমনে জৈব বালাইনাশকের ব্যবহারের পাশাপাশি সেক্স ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহার করা হচ্ছে। ৩টি ছোট ছোট প্লটে প্রায় ৫ শতাংশ জমিতে এই মৌসুমে পাওয়া গেছে; আলু- ৮৫ কেজি শিম ৬০ কেজি আদা ১৫ কেজি পেঁয়াজ ২৪ কেজি টমেটো ১২০ কেজি বেগুন ৪৫ কেজি ব্রোকলি ২৫টি ফুলকপি ২০টি রঙিন ফুলকপি ১০টি বাঁধাকপি ৬৫টি শশা ১৫ কেজি এছাড়াও অন্যান্য অনেক সবজি।

এছাড়াও চরফ্যাশন কৃষি বিভাগের আওতায় একটি নান্দনিক ছাঁদবাগান করা হয়েছে কৃষি বিভাগের গোডাউনের ছাঁদে। সেখানে আম, পেঁয়ারা, সফেদা, আনার, ড্রাগন ফল, মাল্টা, লেবু, চেরী ফল, আনারস সহ নানারকম ফল গাছ রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকতা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন, গ্রামাঞ্চলে প্রত্যেকের বাড়িতে কমবেশি পতিত জমি থাকে।

আমাদের এই উদ্যোগ নেওয়ার উদ্দেশ হলো আমরা যাতে নিরাপদ সবজি পাওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করছি এভাবে পতিত জমির ব্যবহারের জন্য। প্রত্যকের বাড়িতে যদি এভাবে ছোট ছোট কার্যক্রম গ্রহণ করা হয় তাহলে পুষ্টি চাহিদা মিটবে, সমৃদ্ধ হবে গ্রামীণ অর্থনীতি।