যমুনা নদীর তীরে সোলার পার্কে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাফল্য

প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর তীরবর্তী সয়দাবাদ এলাকায় ৬৮ মেগাওয়াট সোলার পার্ক স্থাপিত হয়েছে। এ সোলার পার্ক এরইমধ্যে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সংযোজন বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অর্জনে বিবেচিত হচ্ছে। এ বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ওই সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে রয়েছে। ইনস্টল ক্যাপাসিটি ৭৫ মেগাওয়াট থাকলেও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক ৬৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে। এতে গড়ে ১৮.৫০ শতাংশ প্ল্যান ফ্যাক্টর অর্জিত করেছে।

গত বছর বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ার পরেও ১৮.৫০ শতাংশ প্ল্যান ফ্যাক্টর অর্জন করা হয়। যমুনার পাড়ে ওই এলাকায় ২১৪ একর পতিত জমির উপরিভাগে সোলার প্যানেল এবং তার নিচে চলছে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ ও গবাদিপশু পালন। প্রকল্প পরিচালক তানবীর রহমানের উদ্যোগে পরীক্ষামূলকভাবে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি ও চীনের চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশনের (ঈগঈ) যৌথ উদ্যোগে গঠিত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ-চায়না রিনিউয়েবল এনার্জি কোম্পানি লি. (বিসিআরইসিএল) এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এ প্রকল্পে মোট ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭৬টি মনোক্রিস্টালাইন বাইফেসিয়াল পিভি মডিউল স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটির ক্ষমতা ৫৪৫ কিলোওয়াট-পিক। স্থাপিত মোট ক্ষমতা ৮৫.৩৩ মেগাওয়াট পিক (ডিসি) এবং ৭৫ মেগাওয়াট (এসি)। বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৭২টি ইনভার্টার, ১২টি ইনভার্টার স্টেশন এবং ১টি ১০০ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন মেইন ট্রান্সফরমার রয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ ১২টি ইনভার্টার স্টেশনের মাধ্যমে ৩৩/১৩২ কেভিতে ভোল্টেজ স্তর পরিবর্তন করে ১০০ এমভিএ মেইন ট্রান্সফরমারের সাহায্যে ১০.৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ১৩২ কেভি ডাবল সার্কিট ট্রান্সমিশন লাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক বলেন, বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ২০৩০ সালের মধ্যে চাহিদার ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের কথা বলেছে। এ ক্ষেত্রে প্রকল্প এলাকার পাশে প্রায় ৭৫ একর অনাবাদি জমি ব্যবহার করে আরও ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এ সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৮০ ওজঊঈ অর্জিত হয়েছে এবং সেই সঙ্গে ১ লাখ ৬ হাজার ২৪৮ টন কার্বনডাইঅক্সাইড নিঃসরণ কমানো সম্ভব হয়েছে। এ বিষয়ে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, সোলার পার্কের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে এবং সেইসঙ্গে বিভিন্ন ফসলও চাষ হচ্ছে। সরকারের কাছে যমুনাপাড়ে এ সোলার পার্ক সম্প্রসারণের জোরালো দাবি করছি। এ পার্ক সম্প্রসারণ হলে সিরাজগঞ্জবাসী বেশি লাভবান হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।