শ্রীনগরে প্রতিপক্ষের হামলায় ১৪ জন গুলিবিদ্ধ
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাঘড়া ইউনিয়নের রুদ্রপাড়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলা ও শটগানের গুলিতে ৩ শিশু ও নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৪ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার দিবাগত রাত ৯টায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায়, মোটরসাইকেল চালানোর সময় হেলমেট পরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। পরে তা ধীরে ধীরে উত্তেজনায় রূপ নিয়ে সংঘর্ষে গড়ায়। আহতদের স্বজন রফিকুল ইসলাম খান জানান, তার ভাতিজা মিজান খান মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়িতে ফেরার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে হেলমেট পরা নিয়ে বাধা দেয়। এ সময় তাকে বলা হয়, রাতে মোটরসাইকেল চালালে হেলমেট পরা যাবে না। পরে মারধরের শিকার হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মিজান বাড়িতে ফিরে পুরো ঘটনা পরিবারকে জানায়।
মিজানের বাবা খোরশেদ খান ছেলের রক্তাক্ত শীরর দেখে হারুন-মান্নানদের নাম ধরে গালিগালাজ করেন। বিষয়টি হারুন-মান্নানরা জানার পর ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল নিয়ে মিজানদের বাড়িতে হামলা চালায়। সে সময় মান্নানরা শটগান দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে বাড়িতে থাকা শিশু, নারী ও পুরুষসহ অন্তত ১৪ জন আহত হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে শ্রীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হয়।
হামলার অভিযোগ স্থানীয় হারুন খান ও তার ভাতিজা মান্নান খানদের বিরুদ্ধে। আহতরা সবাই খোরশেদ খান ও তার ছেলে মিজান খানদের স্বজন বলে জানা গেছে। আহতরা হলেন- মিজান খান, তার মা মিনু বেগম, ফুপু জয়তন বেগম, শাফি বেগম বেগম, মিজানের ববা খোরশেদ খান, চাচা ইদ্রিস খান, মিজানের ফুপাতা বোন ফাহিমা, ভাবি কাজল বেগম, নুপুর আক্তার, বর্ণা আক্তার এবং তার ভাতিজা-ভাতিজি আয়ান, মোস্তাকিন, দোলন, ইভা আক্তার। আহতদের মধ্যে মিজান ছাড়া অন্যদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) শংকর কুমার পাল গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জানান, গত রোববার দিবাগত রাত ১২টার পরে হাসপাতালে নারী শিশুসহ ১৪ জন চিকিৎসা নিতে আসেন। এদের মধ্যে ১৩ জনের শরীরে গুলির চিহ্ন ছিল। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত মিজান খানের চাচা রফিকুল খা জানান, এলাকায় মাদকের ব্যবসা করছে হারুন-মান্নানরা। হেলমেট পড়া কাউকে দেখলে তাঁরা পুলিশ ভেবে ভয় পায়। এজন্য মোটরসাইকেল চালালেও কাউকে হেলমেট পড়তে দেয়না তারা। কথায় কথায় অস্ত্রের ভয় দেখায়, মারধর করে। রফিকুল খান আরও বলেন, আমাদের বাড়ির শিশু, নারী, পুরুষ সবাই গুলিবিদ্ধ হয়ে আর্তনাদ করছিলো। তখনও হারুণ-মান্নানরা আমাদের বাড়ির কাউকে হাসপাতালে নিতে দিচ্ছিলো না। রাত ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আমাদের লোকজনদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় রুদ্রপাড়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় রাতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
