রমজান মাসে জমজমাট টেকনাফের তরমুজ বাজার

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  টেকনাফ প্রতিনিধি

পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে জমজমাট হয়ে উঠেছে তরমুজের বাজার। প্রতিদিনই পাশ্ববর্তী জেলা থেকে ট্রাক ও পিকআপভর্তি তরমুজ আসছে টেকনাফ উপজেলার পাইকারি ও খুচরা বাজারে। এমনকি টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় আগাম তরমুজ চাষের কারণে বর্তমানে অন্য জায়গা থেকে তরমুজ সংগ্রহ করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদোর। তবে সরবরাহ বাড়লেও খুচরা বাজারে তুলনামূলক বেশি দামে তরমুজ বিক্রি হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে টেকনাফ পৌরসভার বাস স্টেশন, শাপলা চত্বর, উপরে বাজার এলাকার বিভিন্ন ফলের বাজার ঘুরে দেখা যায় বড়, মাঝারি ও ছোট আকারের বিভিন্ন জাতের তরমুজে বাজার সেজে উঠেছে। দোকান ও ফুটপাতগুলোর সামনে স্তূপ করে রাখা হয়েছে লাল- সবুজ রঙের তরমুজ। ক্রেতাদেরও ভিড় দেখা গেছে বিভিন্ন দোকানে।

ব্যবসায়ীরা জানান, টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় আগাম তরমুজ চাষের কারণে বর্তমানে এখানে তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে তরমুজ সংগ্রহ করে আনতে হচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাজারেও তরমুজের চাহিদা বেশ বেশি। বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকার ও মানভেদে প্রতিটি তরমুজ ৩৫০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে। আবার অনেক দোকানে কেজি হিসেবে ৭০ থেকে ৮৫ টাকা দরে তরমুজ বিক্রি করতে দেখা গেছে। তুলনামূলক বড় ও উন্নত মানের তরমুজের দাম আরও বেশি রাখা হচ্ছে।

টেকনাফ পৌরসভার উপরে বাজারে তরমুজ ব্যবসায়ী মো. গফুর সওদাগর বলেন, রমজান শুরু হওয়ার পর থেকেই তরমুজের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। প্রতিদিন ভোরে ট্রাকে করে তরমুজ বাজারে আসে। তবে পরিবহন খরচ, শ্রমিক মজুরি এবং পাইকারি দামের কারণে খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেশি পড়ছে। বাস স্টেশন মসজিদ সংলগ্ন ফল ব্যবসায়ী রাসেল বলেন, কষকেরা আগাম তরমুজ চাষের কারণে বাজারে তরমুজ বেশি আসছে। সামনে এপ্রিলের দিকে আরও বেশি তরমুজ উঠবে। তখন সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমে আসবে। তবে তরমুজের দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেক ক্রেতা।

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের গোদারবিল এলাকার জয়নাল আবেদীন বলেন, রমজানে ইফতারে তরমুজ খাওয়ার জন্য কিনতে এসেছি। কিন্তু একটি তরমুজের দাম ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জন্য এটা বেশ ব্যয়বহুল। আরেক ক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, রমজান এলেই তরমুজের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় সেই সুযোগে দামও বাড়ানো হয়। বাজারে যেন অযৌক্তিক দাম না বাড়ে, সেজন্য প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।

তবে স্থানীয়দের দাবি, রমজানকে কেন্দ্র করে ফলের বাজারে যেন কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত দাম না বাড়ে সে জন্য নিয়মিত বাজার তদারকি করা জরুরি। এতে একদিকে যেমন সাধারণ ক্রেতারা স্বস্তি পাবেন, অন্যদিকে কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে পারবেন।