ঈশ্বরদীতে ২০ দিনে ৫৫ ছাগলের মৃত্যু
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে একই গ্রামের কয়েকটি পরিবারের ৫৫টি ছাগল মারা গেছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ছাগলগুলো মারা যাওয়া ও আরও ছাগল অসুস্থ বলে উপজেলার ওই মাজদিয়া পশ্চিম খাঁ পাড়ার বাসিন্দারা নিশ্চিত করেছেন। ছাগলের মৃত্যু ও অসুস্থ হাওয়ায় ছাগল পালনকারীরা কয়েকটি পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোছা: আকলিমার খাতুন বলেন, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমরা গুরুত্ব দিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করি।
উপজেলার মাজদিয়া পশ্চিম খাঁ পাড়ার দিনমজুর শফিকুল আলম বলেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে আমার চারটি ছাগলের মৃত্যু হয়েছে। অবশিষ্ট আরও দুটি ছাগলও এখন অসুস্থ।’ চোখ মুছতে মুছতে কথাগুলো বলছিলেন ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের মাজদিয়া খাঁ পাড়া গ্রামের দিনমজুর শফিকুল আলম। ওখানকার ছাগল পালনকারী কয়েকটি পরিবার বলেন, আমরা এখন পথের ফকির। আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা (ঋণ) করে কয়েকটি ছাগল কিনে তা লালন-পালন করে বাজারে বিক্রি করে যে লাভ হতো, তা দিয়ে স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবার নিয়ে বেশ ভালোই কাটছিল।’ তারা আরও বলেন, ‘অভাবের সংসার। তারপরও বাজার থেকে বাকিতে ছাগলের খাবার (ভুসি), ওষুধ কিনেছি। আশা ছিল, ছাগল বিক্রি করে সব ধারদেনা পরিশোধ করব। আসন্ন ঈদে ছেলে মেয়েসহ পরিবারের জন্য পোশাক কিনব। কিন্তু ছাগলগুলো মারা যাওয়ায় কীভাবে সংসারের খাবার জোগাবো আর কীভাবে অপরের ধারদেনা শোধ করব, ভেবে পাচ্ছি না।’
গত মঙ্গলবার ভুক্তভোগী পরিবার ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই এলাকায় অত্যাধিক জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ছাগল আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ ও মারা যাওয়া রোগটি রমজান মাসের প্রথম দিক থেকে শুরু হয়। এই রোগে আক্রান্ত ছাগলগুলোর অত্যাধিক জ্বর (১০৫ থেকে ১০৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস), শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা কাঁশি ও খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে। এটা ছাগলের কন্টাগিয়াস ক্যাপরিন প্লিউরোপ্নিউমোনিয়া (সিসিপিপি) রোগের লক্ষণ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যায় এটা সিসিপিপি রোগের আক্রান্ত হতে পারে। ল্যাব টেস্টের জন্য আমরা রোগাক্রান্ত ছাগলের স্যাম্পল কালেকশন করে স্যাম্পল টেস্ট করতে সিরাজগঞ্জ ফিল ডিজিজ স্যাম্পল ল্যাবরেটরি (এফডিআইএল) পাঠানো হলে আজ বুধবার (১১ মার্চ) বিকাল পর্যন্ত টেস্ট রিপোর্ট আসেনি। টেস্ট রিপোর্ট এলে নিশ্চিত করে বলা যাবে ছাগলের মৃত্যুর সঠিক কারণ। তবে এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ওই এলাকার ছাগল পালনকারীরা। উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের মাজদিয়া পশ্চিম খাঁপাড়ায় গ্রামে মঙ্গলবার পর্যন্ত শফিকুল আলমের চারটি, হোসেন আলীর তিনটি, সাইদুল ঘোষের তিনটি, জহুরুলের চারটিসহ আরও বেশ কয়েকটি বাড়িতে বাড়িতে আক্রান্ত হয়ে ৫৫টি ছাগল মারা গেছে এবং আরও বেশ কিছু ছাগল অসুস্থ রয়েছে বলে ছাগল পালনকারীগণ নিশ্চিত করেছেন।
ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ইউএলও) মোছা. আকলিমা খাতুন বলেন, গত রবিবার উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মইদুল ইসলাম খানসহ একটি মেডিকেল টিম গঠন করে আক্রান্ত মাজদিয়া পশ্চিম খাঁ পাড়ায় পাঠানো হয়।
