কুড়িয়ে পাওয়া টাকা মাইকিং করে মালিককে ফেরত দিলেন ব্যবসায়ী

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনায় রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া এক স্কুল শিক্ষকের ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা মাইকিং করে ফেরত দিলেন মো. বশির উদ্দিন নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী। গতকাল বৃহস্পতিবার বরগুনা শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন এলাকায় উপস্থিত হয়ে প্রমাণ সাপেক্ষে প্রকৃত ওই মালিককে কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দেন ব্যবসায়ী মো. বশির উদ্দিন।

জানা যায়, জাকাতের উদ্দেশে গরু কেনার জন্য রাখা ওই টাকা পথে হারিয়ে ফেলেন স্কুল শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান। তিনি বরগুনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। গত বুধবার সকাল ১০টার দিকে বরগুনা পৌর শহরের সদর রোড হয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছিলেন কাঁচা বাজারের আড়তদার মো. বশির উদ্দিন। এ সময় স্টেডিয়াম এলাকায় সড়কের পাশে একটি খাম পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পরে খামটির মধ্যে কিছু আছে ভেবে হাতে তুলে বশির উদ্দিন দেখতে পান ভেতরে অনেকগুলো টাকা। এরপর আশপাশের

বিভিন্ন মানুষকে জানালেও ওই টাকার প্রকৃত মালিক খুঁজে না পাওয়ায় মাইকিংসহ বিভিন্ন ব্যক্তির ফেসবুকে বিষয়টি জানিয়ে পোস্ট করতে বলেন। পরবর্তীতে মাইকিং শুনে টাকার সঠিক প্রমাণ দিতে পারায় স্কুল শিক্ষক খলিলুর রহমানকে কুড়িয়ে পাওয়া ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা ফেরত দেন ব্যবসায়ী বশির উদ্দিন।

টাকা ফেরত পেয়ে স্কুল শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান বলেন, গরু কিনে জাকাত দেওয়ার উদ্দেশে টাকাটা নির্ধারণ করে রেখেছিলাম। প্যান্টের পকেটে মোবাইল ফোন এবং অন্য টাকার সঙ্গে আলাদা একটি খামে ওই টাকা ছিল। কিন্তু আমার অজান্তেই পকেট থেকে টাকার খামটি রাস্তায় পড়ে যায়। এরপর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও টাকা পাইনি। পরবর্তী মাইকিং শুনে যোগাযোগ করলে হারিয়ে যাওয়া টাকা আমি ফেরত পেয়েছি।

টাকা কুড়িয়ে পাওয়া ব্যবসায়ী বশির উদ্দিনের বিষয়ে তিনি বলেন, নগদ টাকা পেয় লোভ সামলানো এটি আসলেই একটি বড় ঈমানের পরিচয়। নিখুঁত ঈমান ও সততা না থাকলে লোভ সামলানো অসম্ভব। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দেবেন। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা। বশির উদ্দিন বলেন, গতকাল রাস্তায় পড়ে থাকা অবস্থায় একটি খামের মধ্যে ১ লাখ ২৩ টাকা পাই। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে খোঁজাখুঁজি করলেও টাকার আসল মালিককে পাইনি। এরপর টাকা পাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে মাইকিং করালে প্রকৃত মালিক পাওয়া গেলে সঠিক প্রমাণ সাপেক্ষে টাকাগুলো তাকে ফেরত দিয়েছি।