সেতু পারাপারে নিয়ম মানছে না মালবাহী গাড়ি

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ও সোনাহাট ইউনিয়নের দুধকুমার নদের ওপর ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত হয় সোনাহাট সেতু। বর্তমানে কালের আর্বতনে ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে পাটাতনসহ সেতুর বিভিন্ন অংশ। সোনাহাট সেতু পারাপারের ক্ষেত্রে কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থদের সিদ্ধান্তক্রমে সেতুর ওপর দিয়ে ভারী মালামাল বোঝাই যানবাহন চলাচলে নিষেধ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।

নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলা প্রায় ১০টি ইউনিয়নের মানুষজন প্রতিনিয়ত চলাচল করেন এই ব্রিজের ওপর দিয়ে। এছাড়া সোনাহাট স্থলবন্দরটি সেতুর পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত হওয়ার প্রতিনিয়ত বন্দরের কার্যক্রম অব্যবহত রাখার জন্য শত শত মালবাহী ট্রাক সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত। ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি ভুরুঙ্গামারী উপজেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত হয় ব্রিজের ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৪০০ সিয়েফটি যা ১৭ টনের অধিক মালবাহী ভারী যানবাহন চলা নিষেধ। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না। একাধিক সূত্র জানায়, স্থানীয় একটি চক্র ৬ চাকার ট্রাকের পরিবর্তে ১০ চাকার ট্রাক পারাপারের অবৈধ কাজটি চালিয়ে যাচ্ছে। যা ৩০ টনের অধিক মালামাল বোঝাইয়ে সক্ষম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে মাত্রাতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় ব্রিজটি ভেঙে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সোনাহাট ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা মামুন বলেন, সামনে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এলাকার কর্মমুখী মানুষজন বাড়িতে ছুটে আসবে পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ করতে। কিন্তু এভাবে ভারী যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকলে ব্রিজটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়বে। সে ক্ষেত্রে ঈদ উপলক্ষে কর্মমুখী মানুষের ভোগান্তির মাত্রা বহুগুণে বেড়ে যাবে। ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ব্রিজের ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল কোনো ক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা অব্যাহত থাকলে যানবাহন গুলিকে বিধিনিষেধ মানতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে মোবাইল কোট পরিচালনা পরিচালনা করা হবে।

কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নিজাম উদ্দিন জানান, পুরাতন ব্রিজের দক্ষিণ পাশে নতুন ব্রিজের কাজ নির্মাণাধীন রয়েছে। চলতি বছরের ব্রিজটির কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে জন দুর্ভোগ কমাতে পুরাতন ব্রিজটি মেরামতের কাজ কয়েক দফায় সম্পন্ন করা হয়েছে।