চান্দিনায় টমেটো চাষিদের সুদিন

* সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক জাতের ব্যবহার এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে অল্প জমিতেও কৃষকরা ভালো আয় করতে পারছেন

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ওসমান গনি, চান্দিনা (কুমিল্লা)

কৃষি নির্ভর বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে সবজি চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক জাতের ব্যবহার এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে অল্প জমিতেও কৃষকরা ভালো আয় করতে পারছেন। এমনই এক উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার পৌর এলাকার হারং গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক তাজুল ইসলাম। মাত্র ২৪ শতাংশ জমিতে টমেটো চাষ করে তিনি এ মৌসুমে লাভের মুখ দেখেছেন এবং স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও আশার সঞ্চার করেছেন।

তাজুল ইসলাম মূলত একজন পরিশ্রমী কৃষক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করে আসছেন। তবে চলতি মৌসুমে তিনি তার জমিতে উচ্চ ফলনশীল ‘রাজা’ জাতের টমেটো চাষ করেন। শুরু থেকেই তিনি পরিকল্পিতভাবে জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ এবং পরিচর্যার কাজ করেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি জমিতে টমেটোর চারা রোপণ করেন। ধীরে ধীরে গাছে ফুল আসে এবং পরে গাছে ভরে ওঠে লাল টমেটোতে।

এই টমেটো চাষ করতে গিয়ে তাজুল ইসলামের মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার টাকা। জমি প্রস্তুত করা, চারা সংগ্রহ, সার, কীটনাশক, শ্রমিক মজুরি এবং সেচসহ বিভিন্ন খাতে এই ব্যয় হয়েছে। তবে খরচের তুলনায় তার উৎপাদন এবং বিক্রি তাকে আশাবাদী করে তুলেছে। এরইমধ্যে তিনি তার খেত থেকে টমেটো বিক্রি করে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় করেছেন।

তাজুল ইসলাম জানান, এখনও তার জমিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টমেটো রয়েছে। বাজার পরিস্থিতি ভালো থাকলে এসব টমেটো বিক্রি করে তিনি আরও ২০-৩০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন বলে আশা করছেন। সব মিলিয়ে এ মৌসুমে টমেটো চাষ করে তিনি ভালো লাভের মুখ দেখছেন। এতে তার পরিবার যেমন খুশি, তেমনি আশাবাদী হয়ে উঠেছেন আশপাশের অনেক কৃষকও।

তিনি বলেন, কৃষিকাজে সফলতা পেতে হলে ধৈর্য এবং যত্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে জমিতে সার দেওয়া, রোগবালাই দমন করা এবং নিয়মিত পরিচর্যা করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। তার মতে, একজন চাষি যদি আন্তরিকভাবে কৃষিকাজ করেন এবং আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করেন, তাহলে অবশ্যই লাভবান হওয়া সম্ভব।

স্থানীয়ভাবে তাজুল ইসলামের টমেটো খেত এখন অনেকের কাছে আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। আশপাশের কৃষকরা তার খেত দেখতে আসছেন এবং টমেটো চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছেন। অনেকেই তার সফলতা দেখে আগামী মৌসুমে টমেটো চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে বাজারে টমেটোর চাহিদা বেশ ভালো। ফলে পরিকল্পিতভাবে চাষ করলে কৃষকরা লাভবান হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ কাজে লাগালে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।

তাজুল ইসলামের এই সফলতা প্রমাণ করে যে, সঠিক পরিকল্পনা এবং পরিশ্রম থাকলে অল্প জমিতেও কৃষকরা উল্লেখযোগ্য আয় করতে পারেন। তার মতো উদ্যোগী কৃষকদের কারণে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এমন সফলতার গল্প আরও অনেক কৃষককে অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।