কলেজছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরে কলেজছাত্রীকে কলেজে যাওয়ার পথে অপহরণের দায়ে সোহেল শেখ নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

অপহরণের পর ধর্ষণের দায় প্রমাণিত হওয়ায় অন্য আরেকটি ধারায়ও তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুটি ধারার রায়েই যাবজ্জীবনের পাশাপাশি তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে এই দুই সাজা একত্রে ভোগ করতে হবে। গতকাল রোববার ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ওই যুবক ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার দক্ষিণ চরনারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। অপহরণ ও ধর্ষণের শিকার কিশোরী বোয়ালমারী উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এরপর তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে এই কিশোরী বোয়ালমারী উপজেলার একটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। বাড়ি থেকে কলেজে যাওয়ার পথে মো. সোহেল শেখ তাকে বিরক্ত করত। এ ঘটনা মেয়ের পরিবারের লোকজন ছেলের অভিভাবকদের কাছে নালিশ করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২০১৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ওই তরুণীকে নিজের সহযোগীদের নিয়ে মাইক্রোবাসে করে অপহরণ করে মো. সোহেল শেখ। এ ঘটনায় ওই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় সোহেল শেখের পাশাপাশি তার ভাই রাসেল শেখ ও তাদের সহযোগী আরিফ শেখকে আসামি করা হয়।

মামলাটি তদন্ত করেন বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সানোয়ার হোসেন। ২০১৭ সালের ২ মার্চ তিনি এই তিনজনকেই অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালতের পিপি গোলাম রব্বানী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হলেও আদালত সোহেল শেখের দুটি অপরাধে দুটি ধারায় রায় প্রদান করেছেন একটি অপহরণ ও অন্যটি ধর্ষণ। দুটি অপরাধে একই সাজা হওয়ায় আদালত তাকে একত্রে ভোগের নির্দেশ দিয়েছেন। এজন্য একই সময়ে একইসঙ্গে এই দুই সাজা কার্যকর হবে।