বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
মো. খোকন, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ)

?বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আয়তনের বালিয়াটি জমিদার বাড়ি দেখতে উপচেপড়া ভিড়। এ জমিদার বাড়ির পর্যটকদের ঘিরে তৈরি হয়েছে শতাধিক ভাসমান দোকান। লম্বা ঈদের ছুটিতে দেখতে আগ্রহী দেশি বিদেশি নানা স্থান থেকে পযটকরা ছুটে এসেছেন প্রাচীন ঐতিহ্যপূর্ণ এই জমিদার বাড়িতে।
?বিগত বছরগুলিতে ঈদের দিন বন্ধ থাকলেও এবার ঈদুল ফিতরের দিন ২১মার্চ শনিবার থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত বালিয়াটি জমিদার বাড়ি পরিদর্শন করেছে প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি পযটক, যা এই ঐতিহাসিক স্থানটির জন্য এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ৪ দিন ধরে চলা এই ঈদের ছুটিতে জমিদার বাড়ির জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এর ফলে এখানে শুধু টিকিট বিক্রি করে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। বালিয়াটি জমিদার বাড়িটি মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের বালিয়াটি গ্রামে অবস্থিত। গত মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে গিয়ে দেখা যায় বেশ ভিড়। মাত্র ৩০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসেছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে।
?নাগরপুর উপজেলার কেদারপুর এলাকা থেকে ঘুরতে আসা সাজিদুর রহমান বলেন, ঈদের লম্বা ছুটি তাই পরিবারের ৫ সদস্য নিয়ে জমিদার বাড়িতে ঘুরতে এসেছি। ৩০ টাকা করে ৪টি টিকিট কিনেছি ১২০ টাকা দিয়ে। আর ৪ বছরের শিশুর টিকিট লাগেনি। এই ৫ সদস্য নিয়ে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গেলে পরিবেশ ভেদে ৩-৪ হাজার টাকা শুধু টিকিট বাবদ লাগত। সেখানে আমরা বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে ১২০ টাকার টিকিট কেটে ঈদের আনন্দ উপভোগ করলাম।
মির্জাপুর উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের আক্কাজ আলী বলেন, আমি ধামরাই উপজেলায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। বুধবার বাড়ি থেকে গিয়ে অফিস করব। তাই ছুটির শেষ দিন বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে বেড়াতে আসলাম।
?ঢাকার মিরপুর এলাকার বাসিন্দা আমিনুর রহমান বলেন, ঢাকার বাইরে কোলাহলমুক্ত পরিবেশে জন প্রতি ১৫০ টাকা খরচ করে বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে বেড়াতে এসেছি বন্ধুদের নিয়ে। ৩০ টাকায় দিনভর ঘুরলাম এ নান্দনিক জমিদার বাড়িতে। জমিদার বাড়ির সামনের হোটেলে গ্রামীণ পরিবেশে অল্প টাকা দুপুরের খাবারও খেলাম।
জমিদার বাড়ির ভেতরে দুপুর থেকে ২টা পর্যন্ত অবস্থান করে দেখা যায়। টিকিট কেটেই প্রথমে চলে যাচ্ছে অন্দর মহলে। জমিদার বাড়ির ৪টি ভবনের বা থেকে দ্বিতীয়টির ২য় তলায় অবস্থিত ৪টি রুমে জমিদার বাড়ির বিভিন্ন আসবাবপত্র সাজানো। কথিত আছে বড় রুমের ভেতরে জমিদাররা নৃত্য দেখত আর আনন্দ উপভোগ করত। ৪টি ভবরের বারান্দায় প্রবেশ করে কেউ সেলফি তুলছেন। পেছনে রয়েছে ৭ ঘাটলা বিশিষ্ট পুকুর। ৪টি বড় ভবন ছাড়াও পেছনে রয়েছে আরও ৩টি বড় অট্রালিকা। সবগুলো আবার সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। সামনের সীমানা প্রাচীরের মধ্যে রয়েছে ৪টি সিংহ দ্বার। যার পেছনে ফেলে ছবি তুলতে বেশি ব্যস্ততা পর্যটকদের। আবার ছবি তুলতে তুলতে কাঁচা ঘাসের ওপর বসে সময় পার করছেন অনেকেই। ৫,৮৮ একর জমির ওপর নির্মিত এই জমিদার বাড়িটি।
জমিদার বাড়ির সামনে বিভিন্ন রকমের রকমারি জিনিসের শতাধিক দোকান বসেছে। বসানো হয়েছে নাগরদোলা ও শিশুদেরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্টল। ফুচকা, চটপটি ও গরমের জন্য লোকাল ডাব ও বিভিন্ন দোকান। আর বিভিন্ন কোমল পানীয়, আইসক্রিম এর স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকান।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বালিয়াটি প্রাসাদ জাদুঘরের সহকারী কাস্টোডিয়ান নিয়াজ মাখদুম বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সবার আগমনে আমরা খুবই আনন্দিত। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের দর্শনার্থীরা এখানে এসে আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারছে। এতে যেমন পর্যটন খাতের উন্নতি হচ্ছে, তেমনি স্থানীয় ব্যবসা এবং কর্মসংস্থানে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ মৌসুমে ঈদের দিন থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি করে প্রায় ৫ লাখ টাকা আয় হয়েছে।
সারা বছরই পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায় এ জমিদার বাড়িতে। তবে দুই ঈদ, পহেলা বৈশাখ, ১৬ ডিসেম্বর ও ২৬ মার্চসহ বিভিন্ন দিবসে বহুগুনে বেড়ে যায় পর্যটকদের। তাছাড়া ঢাকার অত্যন্ত নিকট, যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো থাকায় দিন দিন দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হচ্ছে।
সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, যেখানে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব রয়েছে, অন্যদিকে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য উন্নত পরিষেবা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে জমিদার বাড়িতে। পরিদর্শনের জন্য আরও উন্নত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হয় এবং এই ঐতিহাসিক স্থানটির সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া, পর্যটকদের আগমন বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।
